E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

শহরে করোনা, শঙ্কা সরিয়ে সতর্কতার বার্তা

চিকিৎসকদের দাবি, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ভাইরাল সংক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর-সর্দি-কাশিতে সমস্ত বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতে ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণও ধরা পড়ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৪৫

— প্রতীকী চিত্র।

পড়শি রাজ্যে বিগত কয়েক দিনে বেড়েছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। ঘটেছে মৃত্যুও। এ রাজ্যের কলকাতার কয়েকটি হাসপাতালেও চিকিৎসাধীন রয়েছেন কয়েক জন করোনা আক্রান্ত রোগী। তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও স্বাভাবিক ভাবেই সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে করোনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন, তবে কি ফের নতুন করে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেছে করোনা? যদিও চিকিৎসক মহলের দাবি, অযথা এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।

চিকিৎসকদের দাবি, আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ভাইরাল সংক্রমণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর-সর্দি-কাশিতে সমস্ত বয়সের মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। তাতে ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে কোভিড সংক্রমণও ধরা পড়ছে। তবে জ্বর, সর্দি, কাশি বা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা কোভিড, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নাকি সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ— তা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিশেষত শিশু, প্রবীণ, গর্ভবতী মহিলা এবং দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভোগা মানুষকে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা, প্রয়োজনে মাস্ক ব্যবহার করা এবং হাঁচি-কাশির সময়ে আক্রান্তের থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন।

শহরে বাইপাসের ধারের একটি হাসপাতালে সম্প্রতি জ্বর, সর্দি, কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন এক বালকের কোভিড পজ়িটিভ ধরা পড়ে। তবে বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। পিয়ারলেস হাসপাতালের শিশুরোগ চিকিৎসক সহেলী দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘ওই বালক ভাল আছে। তবে গত কয়েক দিনে অনেক শিশুই জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়ার উপসর্গ নিয়ে আসছে। সকলেরই ভাইরাল প্যানেল পরীক্ষা করা হচ্ছে।’’

শহরের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি তিন জন রোগী করোনা আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে। ফর্টিস হাসপাতালের পালমোনোলজিস্ট ও ক্রিটিক্যাল কেয়ারের চিকিৎসক শুভজিৎ সেন বলেন, ‘‘তিন জনের মধ্যে এক জন পুরো সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। অন্য দু’জনের রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় আইসিইউ-তে ভর্তি করতে হয়েছিল। তবে তাঁরাও স্থিতিশীল আছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। সময় মতো যথাযথ চিকিৎসা পেলে অধিকাংশ রোগীই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এই সময়ে সাধারণ সতর্কতা মেনে চলা উচিত।’’

সংক্রামক রোগের চিকিৎসকদের মতে, শুধু কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে, বিষয়টি তেমনও নয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর ভাইরাল প্যানেল পরীক্ষায় ইনফ্লুয়েঞ্জার পাশাপাশি কোভিডও পজ়িটিভ আসছে। দৈনিক ১-২টি কোভিড আক্রান্ত মিললেও বেশির ভাগের মৃদু উপসর্গ থাকায় ভর্তির প্রয়োজন হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন ইন্টারনাল মেডিসিনের চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তবে, কমিউনিটিতে থেকে যাওয়া করোনা ভাইরাসের স্বাভাবিক ভাবেই বার বার মিউটেশন হচ্ছে। তাতে স্পাইক-প্রোটিনে পরিবর্তন হয়ে নতুন নতুন স্ট্রেন তৈরি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ক্রিটিক্যাল কেয়ারের চিকিৎসক সৌতিক পান্ডা। তাঁর কথায়, ‘‘ওমিক্রনের ওই সমস্ত সাব-ভ্যারিয়েন্টের কারণে খুচরো কিছু সংখ্যক আক্রান্ত মিলছে ঠিকই। তবে এই স্ট্রেনগুলির বিগত অতিমারির মতো ঢেউ তৈরির ক্ষমতা নেই।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Corona virus

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy