বাংলাদেশ থেকে ভারতে সুপুরি আমদানি করার নামে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার একটি চক্রের হদিস পেল ডিআরআই (ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স)। এই চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার কলকাতা থেকে ডিআরআই-এর ইন্দোর ইউনিট সুখেন ঘোষ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর বাড়ি কলকাতার আলমবাজারে। এ দিন ধৃতকে বনগাঁ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শুল্ক আইনে সুখেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি ডিআরআই এই চক্রে জড়িত কয়েক জনকে গ্রেফতার করে। এ দিন অন্য এক ধৃত, যিনি ডিআরআই হেফাজতে ছিলেন তাঁকেও বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই চক্রে কিছু ‘প্রভাবশালীর’ জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ডিআরআই বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
পেট্রাপোল বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি ছাড়া ইন্দোনেশিয়া এবং মায়ানমার থেকে ভারতে সুপুরি আমদানি করতে হলে ১০৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয় ভারত সরকারকে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে সুপুরি আমদানি করলে মাত্র ৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। অভিযোগ, একটি চক্র ইন্দোনেশিয়া ও মায়ানমারের সুপুরি বাংলাদেশ এনে তারপরে তা ‘বাংলাদেশি সুপুরি’ হিসেবে পেট্রাপোল-সহ দেশের বিভিন্ন সীমান্ত বন্দর দিয়ে এ দেশে আমদানি করত শুল্ক ফাঁকি দিয়ে। ডিআরআই ওই অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে।
ধৃতদের একজনের আইনজীবী শুভ্রজ্যোতি দত্ত বলেন, ‘‘শুল্ক দফতরের যে সব অফিসার পণ্যের ছাড়পত্র দিয়েছিলেন, তাঁদের কি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে? আমরা চাই সঠিক তদন্ত হোক। এটা দুর্নীতি কিনা, এখনই বলা যাবে না।’’
পেট্রাপোল বন্দরের এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘‘শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সুপুরিআমদানিচক্র এখানে অনেক দিন ধরেই সক্রিয়।’’