পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবির নাম নিয়ে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন আধিকারিক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের ফোন করে সুযোগ-সুবিধা, টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এই প্রতারণার তদন্তে নেমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। ধৃতের নাম অভিজিৎ মণ্ডল। অন্য একটি প্রতারণার মামলায় তিনি হাওড়ার সংশোধনাগারে ছিলেন। সেখান থেকে শুক্রবার তাঁকে কলকাতার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (সিজেএম) আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায় অভিজিৎকে ৬ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত সূত্রের খবর, সম্প্রতি লোকভবন জানতে পারে রাজ্যপাল আর এন রবির নাম নিয়ে কয়েক জন সরকারি আধিকারিক, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিকে ফোন করে বিভিন্ন সুবিধা ও টাকা চাইছে এক ব্যক্তি। বিষয়টি নিয়ে লোকভবনের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। তদন্তে জানা যায়, যে মোবাইল থেকে এই প্রতারণা করা হয়েছে, সেটির মালিক হাওড়ার বালির বাসিন্দা অভিজিৎ মণ্ডল। একই রকম একটি মামলায় বালি থানার হাতে গ্রেফতার হয়ে তিনি হাওড়ার সংশোধনাগারে রয়েছেন। তবে সংশোধনাগারে বন্দি হওয়ার আগেই অভিজিৎ এই প্রতারণা করেছিলেন বলে খবর। এর পরেই কলকাতার সিজেএম আদালতের জারি করা ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ নিয়ে অভিজিৎকে গ্রেফতার করে সংশোধনাগার থেকে আনা হয়।
এ দিন আদালতে অভিজিতের আইনজীবী মহম্মদ সোহেল ধৃতকে যে কোনও শর্তে জামিন দেওয়ার আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘অভিজিতের মানসিক সমস্যা রয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।’’ এই সংক্রান্ত অভিজিতের মেডিক্যাল নথি তিনি আদালতে জমা দেন। জামিনের বিরোধিতা করে সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘ধৃতের মানসিক সমস্যা থাকলে মেডিক্যাল বোর্ড গড়ে তা যাচাই করার কথা।’’ ধৃতকে তিনি ৬ অগস্ট পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের আর্জি জানান। বিচারক মঞ্জুর করেন।