ভারী বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। অল্প বৃষ্টিতেও পরিস্থিতির বদল হচ্ছে না এতটুকু। বানভাসি হচ্ছে হাওড়ার বিভিন্ন এলাকা। সোমবার রাতে হওয়া ভারী বৃষ্টি থামার পরে মঙ্গলবার সকালে চড়া রোদ উঠেছিল। কিন্তু, শহরের ৫০টি ওয়ার্ডের মধ্যে অপেক্ষাকৃত নিচু ওয়ার্ডগুলি থেকে ২০ ঘণ্টা পরেও জল নামেনি। জল ঢুকে গিয়েছে বাড়ির রান্নাঘরেও। সব মিলিয়ে চরম বিপর্যস্ত জনজীবন। জমা জলের দুর্বিষহ অবস্থা থেকে বাসিন্দাদের মুক্তি দিতে এ বার বেঙ্গালুরুর এক নিকাশি বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ করল হাওড়া পুরসভা। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, নিকাশি সংস্কারে ৪৭০০ কোটি টাকার যে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেই কাজ শেষ হতে চার-পাঁচ বছর লাগতে পারে। তাই চিহ্নিত নিচু এলাকাগুলির নিকাশি ব্যবস্থা বিশেষ পদ্ধতিতে উন্নত করা হবে। সেই কাজই করবেন ওই বিশেষজ্ঞ।
সোমবার রাতের তুমুল বৃষ্টিতে বালি থেকে দক্ষিণ হাওড়া, সর্বত্রই দেখা গিয়েছে জল জমার ছবি।সব চেয়ে বেশি জল জমে শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রামরাজাতলা, জগাছা, চ্যাংড়াজোলা, দাশনগর এবং মধ্য হাওড়ার বেলিলিয়াস লেন, শৈলেন মান্না সরণি, ডুমুরজলা স্টেডিয়াম, তাঁতিপাড়া-সহ ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকায়। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত সেই জল পুরোপুরি সরেনি। অন্য দিকে, উত্তর হাওড়ার নস্করপাড়া লেনে প্রায় তিন ফুট জল জমে যায়। একই অবস্থা হয় মহীনাথ পোড়েল লেন, সীতানাথ ঘোষ লেন, তিনকড়ি বসু লেন-সহ বিভিন্ন এলাকায়। যার জেরে এ দিন স্কুলে ও কর্মক্ষেত্রে পৌঁছতে নাজেহাল হয়েছেন বাসিন্দারা। পুরসভার দাবি, জল নামাতে সোমবার রাত থেকেই ২০টি পাম্প হাউস কাজ করেছে। বসানো হয়েছে ৩৭টি পোর্টেবল পাম্প।
হাওড়া পুরসভার এগ্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অলোক চৌধুরী বলেন, ‘‘হাওড়ার নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় (পকেট) জল জমার কারণ খোঁজা ও তার প্রতিকারে সম্প্রতি বেঙ্গালুরু থেকে আসা এক নিকাশি বিশেষজ্ঞকে নিয়োগ করা হয়েছে। যে সব এলাকায় অল্প বৃষ্টিতে জল জমে, ওই বিশেষজ্ঞের নির্দেশ মতো সেই এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার গতিমুখ ঘুরিয়ে দিয়ে কাছাকাছি কোনও জলাধার বা পুকুরে ফেলা হবে। সেই কাজ শুরু হয়েছে।’’
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নবনিযুক্ত নিকাশি বিশেষজ্ঞ এর আগে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের রেললাইনের নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করেছিলেন। সেই পদ্ধতিই হাওড়া শহরে প্রয়োগ করা হবে।
পুরসভা জানাচ্ছে, হাওড়ার সংযুক্ত এলাকাগুলির মধ্যে ৪৭, ৪৮, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে অনেক পুকুর বা জলাধার আছে। এলাকার বড় নর্দমাগুলির সঙ্গে ওই পুকুরগুলির সংযোগ করে দেওয়া হবে, যাতে বৃষ্টির অতিরিক্ত জল এলাকা প্লাবিত না করে পুকুরে গিয়ে পড়ে। এগ্জ়িকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার জানান, এই পদ্ধতিতে ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের অতিরিক্ত জল চ্যাংড়াজোলায় ফেলায় ওই এলাকার নিকাশি সমস্যার অনেকটাই সমাধান হয়েছে।