কোথাও গাছতলায় ডাঁই করে রাখা রয়েছে সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল। কোথাও আবার গুদামঘরের ভিতরে ধুলো-ময়লা আর মাকড়সার জালের মধ্যে পড়ে রয়েছে সাইকেলের স্তূপ। দীর্ঘ দিন পড়ে থেকে অধিকাংশ সাইকেলই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলেও অভিযোগ। বনগাঁ ব্লক অফিস চত্বরে সরকারি প্রকল্পের বিপুল সাইকেল এ ভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বনগাঁ ব্লক অফিসের ভিতরের দিকে মাঠে একটি গাছের নীচে ডাঁই করে রাখা হয়েছে বহু অব্যবহৃত সাইকেল। সাইকেলের সেই স্তূপের একাংশ ইতিমধ্যেই বুনো লতাগুল্মে ঢেকে গিয়েছে। দীর্ঘদিন খোলা জায়গায় পড়ে থাকায় সাইকেলগুলির বিভিন্ন অংশে মরচে ধরেছে। বেশ কিছু সাইকেলের চাকার রিম বেঁকে গিয়েছে। কোথাও আবার মূল কাঠামোও বেঁকে-চুরে গিয়েছে। ফলে সেগুলি আর ব্যবহারের অবস্থায় নেই জানাচ্ছেন এলাকার লোকজন।
শুধু মাঠেই নয়, ব্লক অফিসের পাঁচিলের ভিতরে পিছনের দিকে ক্যান্টিনের পাশের দু’টি গুদামঘরেও পড়ে রয়েছে কয়েকশো সাইকেল। সাইকেলগুলির গায়ে এখনও লাগানো রয়েছে সবুজ সাথী প্রকল্পের টিনের স্টিকার। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় পুরু ধুলোর আস্তরণ পড়েছে সেগুলির গায়ে। অনেক সাইকেলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঝুল ও মাকড়সার জাল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে পড়ুয়াদের জন্য দেওয়া সাইকেল এ ভাবে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়া প্রশাসনিক অবহেলারই ছবি। তাঁদের বক্তব্য, সঠিক সময়ে সাইকেলগুলি বিতরণ করা হলে অথবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে এতগুলি সাইকেল নষ্ট হত না। পড়ুয়াদের ব্যবহারের জন্য কেনা সম্পত্তি যদি সময়মতো কাজে না লাগে এবং পড়ে থেকে নষ্ট হয়, তা হলে প্রকল্পের উদ্দেশ্য কতটা সফল হয়েছে— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়েরা।
বিজেপির তফসিলি মোর্চার বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শোভন বৈদ্য বলেন, “সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অপচয় ও দুর্নীতির প্রমাণ সাইকেলগুলির এ ভাবে পড়ে পড়ে নষ্ট হওয়া।” প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগের পর্যায়ে সাইকেল সরবরাহকারী সংস্থাগুলিকে সেগুলি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, পড়ে থাকা সাইকেলগুলির অধিকাংশই আর ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। ফলে সেগুলি কেজি দরে বিক্রি করার প্রক্রিয়া শুরু হবে।