শহরে বেশ কিছু বেসরকারি স্কুল রয়েছে, যাদের কোনও বোর্ডের অনুমোদন নেই। অথচ স্কুলগুলি দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চলছে। ওই স্কুলের পড়ুয়ারা দশম বা দ্বাদশের বোর্ডের পরীক্ষা দেওয়ার আগে বোর্ডের অনুমোদন রয়েছে, এমন কোনও বেসরকারি স্কুলে গিয়ে পরীক্ষার জন্য নাম নথিভুক্ত করে। এ নিয়ে অভিভাবক ও পড়ুয়ারা প্রায়ই নানা অসুবিধায় পড়েন। শহরে এই ধরনের স্কুলগুলিকে চিহ্নিত করার দাবি জানালেন অভিভাবকদের একাংশ।
সম্প্রতি স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, জেলা স্কুল পরিদর্শক বা অবর বিদ্যালয়ের পরিদর্শক বা শিক্ষা দফতরের অনুমোদিত পরিদর্শকদের বেসরকারি স্কুল পরিদর্শন করতে হবে। সপ্তাহে কমপক্ষে একটি করে বেসরকারি স্কুল পরিদর্শন করতে হবে তাঁদের। সেই স্কুলটি কোন বোর্ড দ্বারা অনুমোদিত, সেটি রাজ্যে সরকারের স্বীকৃত কিনা অর্থাৎ রাজ্যের ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে হবে। বোর্ডের অনুমোদন থাকতে গেলে কোনও স্কুলে যে সমস্ত পরিকাঠামো দরকার অর্থাৎ খেলার মাঠ, যথেষ্ট সংখ্যক ক্লাসঘর, শৌচালয়, গ্রন্থাগার পরিকাঠামো ঠিক আছে কিনা— তা যাচাই করে জমা হবে দফতরের কাছে। যদি কোথাও কোনও খামতি থাকে, তার রিপোর্টও শিক্ষা দফতরকে দিতে হবে।
যদিও জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকেরা জানাচ্ছেন, বেসরকারি স্কুলগুলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের নো অবজেকশন (এনওসি) সার্টিফিকেট আছে কিনা, তা ইতিমধ্যেই দেখা হয়েছে। এক জেলা স্কুল পরিদর্শক বলেন, ‘‘ইতিমধ্যে কিছু স্কুলকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যারা সরকারের কাছে এনওসি-র আবেদন এখনও করেনি। তাদের দ্রুত আবেদন করার কথা বলা হবে। কিছু স্কুল আবেদন করলেও এখনও এনওসি পায়নি। তাদের ক্ষেত্রে পরিকাঠামো খতিয়ে দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ তিনি আরও জানান, কোনও স্কুলের রাজ্য সরকারের এনওসি না থাকলে এক লক্ষ টাকা জরিমানা এবং যতদিন এনওসি নেই, ততদিন দৈনিক ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা হয়। এনওসি না থাকলে পড়ুয়াদের সরকারি পোর্টালে নাম ওঠে না। ফলে নানা অসুবিধা হয়।
একটি বেসরকারি স্কুলের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের এনওসি পাওয়ার পরের ধাপ হল রাজ্য বোর্ড, সিবিএসই বা সিআইএসসিই বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া। অভিযোগ, অনেক স্কুল এনওসি নিলেও বোর্ডের অনুমোদন না নিয়েই চলছে। ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ মৌসুমী সাহা বলেন, ‘‘বোর্ডের অনুমোদন আছে কিন্তু পরিকাঠামো ঠিক নেই, এমন বেশ কিছু স্কুলের অনুমোদন বাতিলও করা হয়েছে আগে। ফলে শিক্ষা দফতরের প্রতিনিধিদের স্কুল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত খুবই ভাল।’’
তবে অভিভাবকদের একাংশের মতে, বেসরকারি স্কুলের পরিকাঠামোর সঙ্গে সঙ্গে তারা কত ফি নিচ্ছে, সে দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। বেসরকারি স্কুলে যখন-তখন ফি বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। ইউনাইটেড গার্জিয়ান অ্যাসোসিয়েশেনের রাজ্য সম্পাদক সুপ্রিয় ভট্টাচার্যের অভিযোগ , ‘‘ফি বৃদ্ধি নিয়ে অভিভাবকরা আদালতে গেলে সরকার কোনও উদ্যোগ নেয় না। বেসরকারি স্কুলগুলির ফি থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য আগের রাজ্য সরকার একটি খসড়া বিল তৈরি করেছিল। যদিও তা বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। আমাদের দাবি, সেই বিল ফের সামনে এনে তাকে আইনে রূপান্তরিত করা হোক।’’