গার্ডেনরিচে জলের পাইপে ফাটল ধরা পড়লেও তা সারাতে অন্তত দিন দশেক সময় লাগবে বলে মনে করছে পুর প্রশাসন। যদিও তাঁরা জানিয়েছেন, ওই সময়ে দক্ষিণ কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলিতে পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হবে না। তাই দোল এবং হোলির দিনে জলের সমস্যায় ভুগতে হবে না গার্ডেনরিচ জলাধার থেকে সরবরাহ করা পানীয় জল ব্যবহারকারীদের। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ফাটল সারানোর কাজ করতে হবে পাইপে জল সরবরাহ বন্ধ রেখে। পুরবাসীর কথা ভেবে আলাদা করে পর্যাপ্ত জল জোগানের ব্যবস্থা করেই সে কাজে হাত দেওয়া হবে।” তিনি জানান, ওই পাইপে দু’টি ফাটলের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
জল দফতরের এক কর্তা জানান, সকাল এবং বিকেলে যে সময়ের জন্য জল দেওয়া হয়, তা ১০-১৫ মিনিট কমানো হতে পারে। তাতে বেশ কিছু পরিমাণ জলের খরচ বাঁচানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন ওই অফিসার। এমনকী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার কয়েকটি এলাকায় পরীক্ষামূলক ভাবে তা করে ফলও মিলেছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।
গঙ্গা থেকে অপরিশোধিত জল দু’টি জিআরপি (গ্লাস রিইনফোর্সড পলিমার) পাইপের মাধ্যমে গার্ডেনরিচ জল শোধনাগারে যায়। রাস্তা থেকে প্রায় ১৭ ফুট নীচ দিয়ে গিয়েছে ওই পাইপ। ওই রাস্তায় ফোর-জি টেলিকম প্রকল্পের কেব্ল পাতার কাজ চলছিল মাইক্রো টানেলিং পদ্ধতিতে। মেয়র শোভনবাবু জানান, সেই কাজ করার সময়ে ওই বিপত্তি ঘটে।
বুধবার ফাটলের খবর মিললেও তার সন্ধান পেতে প্রায় ৪০ ঘণ্টা কেটে যায় পুরকর্মীদের। পুরসভার জল দফতরের ডিজি বিভাস মাইতি জানান, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কিছুক্ষণের জন্য পাম্প বন্ধ রেখে পাইপের ফাটল খুঁজতে শুরু করেন কর্মীরা। এক প্রকার ডুব দিয়েই পাইপের ফাটলের জায়গা চিহ্নিত করা হয়।
শুক্রবারও সকাল থেকে সেখানে পুরোদমে কাজে নেমেছেন পুর-ইঞ্জিনিয়ারেরা। মেয়রও কাজ দেখতে যান। তবে ওই পাইপটি পলিমারের হওয়ায় সব চেয়ে অসুবিধা হয়েছে বলে মনে করছেন পুরসভার বিশেষজ্ঞেরা।
জল দফতরের এক পদস্থ কর্তা জানান, পানীয় জল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাম্প বন্ধ করা যাচ্ছে না। এর উপরে ওই পাইপ লাইনের পাশ দিয়েই গিয়েছে বৈদ্যুতিক লাইনের চারটি কেব্ল। তাই কাজে আরও সমস্যা হয় পুরকর্মীদের।
এ দিন তাই সিইএসসি কর্তাদের ডেকে পুরসভায় জরুরি বৈঠক করেন পুর-কমিশনার খলিল আহমেদ। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, ওই এলাকায় যে ওভারহেড বিদ্যুতের লাইন আছে তা অন্যত্র নিয়ে যেতে হবে। মাটির নীচে বিদ্যুতের যে কেব্ল আছে, তা-ও সরিয়ে ফেলতে হবে। ওই কাজ দ্রুত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিইএসসি-কে।
এর পাশাপশি, পলিমারের পাইপ সারানো নিয়েও সমস্যা রয়েছে বলে পুরসভা সূত্রের খবর। এক পুর-ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, “একমাত্র গার্ডেনরিচেই জল সরবরাহের জন্য ওই পাইপ বসানো হয়েছে। ১৯৯৮-৯৯ সালে তা বসেছে। আগে এ ভাবে ফাটল ধরেনি। ওই পাইপ যারা সরবরাহ করেছিল, পুণের সেই সংস্থাকেও খবর দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি জানান, জল সরবরাহ পুরো বন্ধ না করলে তা সারানো যাবে না। তাই এখন বেশ কিছু পরিমাণ জল সংগ্রহ করে রাখা হবে। এর জন্য আগামী দিন দশেক সময় লাগবে। তার পরে শুরু হবে কাজ। তা ছাড়া, ওই কাজের জন্য একটি বড় ক্রেনও প্রয়োজন। তা নিয়ে যাওয়া ও রাখার জায়গাও নেই। কংক্রিটের পাটাতন করতে হবে। এ দিকে আর ফাটল থেকে যে পরিমাণ জল বেরোচ্ছে, তা সরাতে সব সময়ের গোটা দশেক পাম্প চালানো হচ্ছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, দৈনিক ১১৫ মিলিয়ন গ্যালন অপরিশোধিত জল ওই পাইপ বেয়ে গার্ডেনরিচ শোধনাগারে যায়। তা থেকে ১০০ মিলিয়ন গ্যালন পরিস্রুত জল তৈরি হয়। মেয়র শোভনবাবু জানান, ফাটলের কারণে এখন ১০-১৫ মিলিয়ন গ্যালন নষ্ট হচ্ছে। ফলে পরিস্রুত জলের পরিমাণও কমছে। তাই জলের জোগান বাড়িয়ে রাখার কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানান মেয়র।