সাল ১৯০১। বেলুড় মঠে আয়োজিত দুর্গাপুজোয় স্বামী বিবেকানন্দের আমন্ত্রণে উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রীমা সারদা। তাঁর অনুমতি নিয়েই পুজোর ব্যবস্থা হয়েছিল। সেই প্রথম বছরেই স্বামী বিবেকানন্দের অনুরোধে বেলুড় মঠের পুজোতে গৌরীমা (শ্রীরামকৃষ্ণদেবের শিষ্যা) কুমারী পুজোর ব্যবস্থা করেছিলেন। ন’জন কুমারীকে নিজে হাতে পুজো করেছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।
চিরাচরিত সেই প্রথা মেনে সোমবার মহাষ্টমীর সকালে বেলুড় মঠে সাড়ম্বরে পালিত হল কুমারী পুজো। পুরনো রীতি মেনেই দুর্গা-অষ্টমীর সকালে লাল বেনারসি, স্বর্ণালঙ্কার, পায়ে লাল আলতা, ফুলের মুকুট-মালা পরিয়ে কুমারীকে সাজানোর পরে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বেলুড় মঠের মূল মন্দিরে। সেখানে শ্রীরামকৃষ্ণদেবকে দর্শন করিয়ে মাথায় ছাতা ধরে কুমারীকে কোলে করে দুর্গা মণ্ডপে নিয়ে আসেন মঠের স্বেচ্ছাসেবকেরা। মূল মন্দির সংলগ্ন মাঠেই তৈরি হয়েছে অস্থায়ী মণ্ডপ। কুমারী পৌঁছতেই সকাল থেকে সেখানে উপস্থিত মহিলা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা উলুধ্বনি দিতে থাকেন। সবার সামনে কুমারীকে দর্শন করিয়ে তাকে দুর্গা প্রতিমার সামনে চেয়ারে বসানো হয়। হাতে দেওয়া হয় পদ্ম। নির্ঘণ্ট মেনে ঠিক সকাল ৯টায় শুরু হয় বেলুড় মঠের কুমারী পুজো।
বেলুড় মঠ সূত্রে জানানো হয়েছে, এ বছর কুমারী হয়েছিল হুগলির রিষড়ার বাসিন্দা সৌম্যকান্তি বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রলেখা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা দেবাদৃতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বয়স ৫ বছর ৯ মাস ২১ দিন। তন্ত্রসারে বলা আছে, এক থেকে ষোলো বছর বয়স পর্যন্ত বালিকাদের কুমারী রূপে পুজো করা যেতে পারে। এক-এক বছরের কুমারীদের এক-এক রকমের নামে পুজো করা হয়। সেই মতো দেবাদৃতাকে ‘উমা-কুমারী’ রূপে পুজো করা হয়। এ দিন কুমারী পুজো দেখতে উপস্থিত ছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী গৌতমানন্দ-সহ অন্যান্য প্রবীণ সন্ন্যাসীরা। রাজ্যপাল আর এন রবি এ দিন মঠের কুমারী পুজো দেখেন।সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ পুজোর শেষে কুমারীকে মঠের সন্ন্যাসী, স্বেচ্ছাসেবকেরা মণ্ডপ থেকে নিয়ে যান বেলুড় মঠ কার্যালয় চত্বরের পুরনো মন্দিরের দোতলায়। সেখান থেকে নামার পরে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে কুমারীকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা করানো হয়।
এ দিন সকাল থেকে কুমারী পুজো উপলক্ষে বেলুড় মঠে ভিড় জমেছিল। মঠ চত্বরের জায়ান্ট স্ক্রিনেও সরাসরি পুজোর সম্প্রচার করা হয়েছে। জি টি রোড থেকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের লম্বা লাইন পড়েছিল মঠে ঢোকার জন্য।ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল পুলিশ বাহিনী। বালি থানা ও বালি ট্রাফিক গার্ডের পাশাপাশি অন্যান্য জায়গা থেকেও পুলিশকর্মীদের আনা হয়। সকাল থেকে মঠে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার নগরপাল অখিলেশ চতুর্বেদী, উপনগরপাল (উত্তর) অম্লানকুসুম ঘোষ-সহ উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তারাও। এ দিন সকাল ১০টার পর থেকে মঠের মা সারদা সদাব্রত ভবনের চারটি তলেই বসে প্রসাদ খাওয়া চালু হয়। সূত্রের খবর, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ এ দিন ভোগ খেয়েছেন। ছিল খিচুড়ি, তরকারি, চাটনি ও ভাজা বোঁদে।