ব্যাঙ্কশাল আদালত চত্বরে ডিম ছোড়ার প্রতিবাদ করেছিলেন আইনজীবীরা। আর সেই কারণে তাঁদের মারধরের ঘটনা ঘটে। যে কারণে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ব্যাঙ্কশাল কোর্টের আইনজীবীরা কর্মবিরতি শুরু করেন। মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার লালবাজার অভিযানেরও ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে, তার আগেই বুধবার গভীর রাতে সেই মূল অভিযুক্ত, বিজেপি নেতা কুশল পাণ্ডেকে গ্রেফতার করে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশ। শুক্রবার ধৃতকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছেন কলকাতার মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক পায়েল বন্দ্যোপাধ্যায়। গোটা ঘটনায় দোষ কবুল করে আদালতে ক্ষমা চান কুশল। কুশল গ্রেফতার হওয়ায় এ দিন লালবাজার অভিযান প্রত্যাহার করে নেন আইনজীবীরা। উঠে গিয়েছে কর্মবিরতিও।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে সমাজমাধ্যমে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে তামিলনাড়ুর কোয়ম্বত্তূর থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার ইউটিউবার দীপক ব্যাপারিকে গত বৃহস্পতিবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করা হলে তাঁর দিকে ডিম ছোড়েন বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার প্রতিবাদ করায় কয়েক জন উকিলকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ। আইনজীবীকে মারধরের ঘটনায় আগেই দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হয়েছেন। বিজেপি নেতা কুশলকে গ্রেফতারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন আইনজীবীরা। বুধবার রাতে হেয়ার স্ট্রিট এলাকা থেকে ধরা হয় তাঁকে। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রাজা সেনগুপ্তের অবশ্য দাবি, আন্দোলনের চাপে আত্মসমর্পণ করেছেন কুশল।
এ দিন কুশলকে হেলমেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়। উড়ন্ত বস্তু থেকে বাঁচাতে খোলা হয় ছাতা। আদালত চত্বর মোড়া ছিল পুলিশি নিরাপত্তায়। কোর্টের মূল ফটক বন্ধ করে দেওয়া হয়। কোর্ট লক-আপের সামনে রাখা ছিল দু’টি পুলিশের গাড়ি। এজলাসে আইনজীবী শাহজাদ হোসেনরা কুশলকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানিয়ে বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত। তাঁদের ধরতে হবে।’’ কুশলকে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর আর্জি জানান সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তীও।
কুশলের আইনজীবী না থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলেন বিচারক। কুশল বলেন, ‘‘উকিলদের সঙ্গে কোনও লড়াই নেই। আইনজীবীরা সেই সময়ে তাঁদের পোশাকে না থাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে।’’