E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

‘প্রধান বিরোধী আমরাই’, বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিবেশ, শাসক-বিরোধীর ভূমিকা, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিয়ে মমতা নানা মন্তব্য করেছেন এবিপি আনন্দের ওই অনুষ্ঠানে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪৩
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রেক্ষিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ (ইমপিচমেন্ট) প্রস্তাব আনার কথা বলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু সেই প্রশ্নেও কংগ্রেসের সঙ্গে ‘দূরত্ব’ স্পষ্ট হয়েছে। এমন টানাপড়েনের আবহে এবং আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিলেন যে, বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে তাঁরাই ‘প্রধান বিরোধী’। এবিপি আনন্দের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। পাশাপাশি, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের বিষয়ে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী, কংগ্রেসের পি ভি নরসিংহ রাওয়ের ‘ভূমিকা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। আবার বাম আমলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর বিভিন্ন ‘মন্তব্যে’র কথাও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। যদিও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর কেউই এখন জীবিত নেই।

সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিবেশ, শাসক-বিরোধীর ভূমিকা, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ নিয়ে মমতা নানা মন্তব্য করেছেন এবিপি আনন্দের ওই অনুষ্ঠানে। সাম্প্রতিক সময়ে ইডি-তল্লাশি চলার সময়ে ঘটনাস্থলে তাঁর পৌঁছে যাওয়া বা এসআইআর-মামলায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করার মতো নানা ঘটনায় মমতার ‘চেনা প্রতিরোধী মেজাজই’ দেখা গিয়েছে বলে অনেকের মত। এই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “সরকারে থেকেও আমরা প্রধান বিরোধী দল। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পরে থেকে অত্যাচার চালাচ্ছে বিজেপি। এখানে বিরোধী দলের থেকে বেশি আমরা অত্যাচারিত! মানসিক অত্যাচার, রাজ্যের জন্য টাকা বন্ধ, সাম্প্রদায়িক অশান্তি লাগানোর মতো ঘটনা ঘটছে।” তাঁর সংযোজন, “আমরা সব থেকে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত। ওরা (বিজেপি) বিরোধী? সরকারি দলের থেকে বেশি সুবিধা পাচ্ছে। আর পটকা ফাটলেও এনআইএ পাঠাচ্ছে!” বিজেপিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাদের শাসিত রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘হেনস্থা’র অভিযোগও তুলেছেন তিনি। দেখা হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘কথা ভাল’ করে বললেও, কোনও কাজ হয় না বলেও দাবি করেছেন মমতা। তাঁর ফের দাবি, আসন্ন ভোটে তাঁরা আরও বেশি আসন পাবেন।

অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে বাবরি মসজিদ ধ্বংস এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাওয়ের ভূমিকা নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, “ওঁর (রাও) সঙ্গে আমার যোগাযোগ কম ছিল। সিপিএমের সঙ্গে ওঁর যোগাযোগ বেশি ছিল।” মমতার সংযোজন, “আমি অজিতদা’কে (পাঁজা) জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘আপনি কেন্দ্রের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী (প্রতিমন্ত্রী)। জানতে পারলেন না, বাবরি মসজিদ ভাঙা হচ্ছে?’ অজিতদা বলেছিলেন, ‘আমি বলেছিলাম। কিন্তু আমাকে চুপচাপ থাকতে বলেছিল।’ ঘটনাটা পূর্ব-পরিকল্পিত। নরসিংহ রাওয়ের পরিকল্পনা ছিল।” পাশাপাশি, জ্যোতি বসুর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কথা বলতে গিয়ে মমতার দাবি, “উনি অনেক সময়ে আমাকে বলতেন, ‘এরা (বামেরা) যাবে কবে?’ সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে বলেছিলেন।”

জ্যোতিবাবু সম্পর্কে মমতা যা বলেছেন, তা নিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেছেন, “জ্যোতিবাবুর নামের আড়ালে উনি কি সাধু সাজতে চাইছেন? আর জ্যোতিবাবুর প্রতি এত শ্রদ্ধা থাকলে, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন থেকে ওঁর নাম-ফলকটা ওড়ালেন কেন? রাজারহাট টাউনশিপ থেকে জ্যোতিবাবুর নাম সরালেন কেন?”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Tmc Leader Mamata Banerjee

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy