Advertisement
E-Paper

পুরনোদের সম্মানের দাওয়াই সম্মেলনে

রবিবার দলের পঞ্চায়েতিরাজ সম্মেলনে যুব সভাপতির বেঁধে দেওয়া সুরেই বক্তব্য রাখলেন পুরুলিয়ার তৃণমূলের জেলা নেতারা। সম্মেলনের মূল বক্তা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুইঁয়াও জানালেন, দলের পুরনো কর্মীদের ব্রাত্য না রেখে তাঁদের নিয়েই কাজ করতে হবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৭ ০১:৩৩
বক্তা: ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠের সম্মেলনে মানস। নিজস্ব চিত্র

বক্তা: ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠের সম্মেলনে মানস। নিজস্ব চিত্র

মাস চারেক আগেই পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরে জনসভায় এসে দলের পর্যবেক্ষক নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুরনো কর্মীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে হবে। তাঁদের দলের সম্পদ বলে জানিয়ে বুথপিছু দু’জন পুরনো কর্মীকে সংবর্ধনা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুরুলিয়ার দলের পর্যবেক্ষক তথা যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার দলের পঞ্চায়েতিরাজ সম্মেলনে যুব সভাপতির বেঁধে দেওয়া সুরেই বক্তব্য রাখলেন পুরুলিয়ার তৃণমূলের জেলা নেতারা। সম্মেলনের মূল বক্তা তথা রাজ্যসভার সাংসদ মানস ভুইঁয়াও জানালেন, দলের পুরনো কর্মীদের ব্রাত্য না রেখে তাঁদের নিয়েই কাজ করতে হবে।

পুরুলিয়ার পাঁচ বিধানসভার নেতা-কর্মীদের নিয়ে অভিষেকের দলীয় বৈঠক মিটতেই জেলার ১৭০টি পঞ্চায়েতের সমস্ত বুথের কর্মীদের নিয়ে রবিবার পুরুলিয়া শহরের ভিক্টোরিয়া হাইস্কুলের মাঠে পঞ্চায়েতিরাজ সম্মেলন হল। এ দিন জেলার দু’হাজারেরও বেশি বুথ থেকে দু’জন করে কর্মীকে সম্মেলনে আসতে বলা হলেও, এসেছিলেন তারও বেশি। সংখ্যাটা প্রায় ১০ হাজার।

বক্তা হিসেবে মানসবাবু ছাড়াও বক্তৃতা করেন জেলার সিনিয়র প্রেসিডেন্ট সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, পুরুলিয়ার যুব তৃণমূল সভাপতি সুশান্ত মাহাতো, পুরুলিয়ার সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতো, রঘুনাথপুরের বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র বাউরি প্রমুখ। সুজয়বাবু বলেন, ‘‘পুরনো কর্মীরাই দলের সম্পদ। নতুন নেতা-কর্মীরা দলকে সমৃদ্ধ করেছেন ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘ লড়াই আন্দোলনের মাধ্যমে দলের ভিত মজবুত করে তৈরি করেছেন পুরনো কর্মীরাই।” সুজয়বাবুর এই বক্তব্য শোনার পরেই হাততালির ঝড় ওঠে। মঞ্চে বসা মানসবাবুকেও দেখা যায় করতালি দিতে।

রাজনীতি নিয়ে সচেতন লোকজন মনে করাচ্ছেন, পুরুলিয়া জেলার তৃণমূল নেতা থেকে বহু কর্মীর সঙ্গে মুকুল রায়ের একসময়ে ভাল যোগাযোগ ছিল। অন্য দিকে, নব্য ও আদি তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বিভাজনও এই জেলায় প্রকট। তার উপরে এই জেলায় বিজেপি প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই মুকুলের বিজেপিতে যোগদানের প্রেক্ষিতে পুরুলিয়ায় তৃণমূলের সংগঠন আরও আঁটোসাঁটো করা দরকার হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে পুরনো কর্মীরা যাতে পঞ্চায়েত ভোটের আগে বসে না যান কিংবা মুকুলের পথ অনুসরণ যাতে না করেন, তা নিয়ে তৎপরতা শুরু হয়েছে তৃণমূলে। সেই প্রেক্ষিতেই দলের পর্যবেক্ষক-সহ জেলার শীর্ষ নেতারা তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন বলে মনে করছেন রাজনীতি সচেতন লোকজন।

তবে জেলা সভাপতি শান্তিরাম মাহাতো অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘মুকুল রায় পুরুলিয়ার তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের জানেন বলেই তাঁদের গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, এমনটা ভাবার কোনও অবকাশই নেই। বিভিন্ন কারণে নিষ্কিয় হয়ে পড়া কর্মীদের আরও উজ্জীবিত করতে দলই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’’

মানসবাবু বলেন, ‘‘এক জন কর্মী নিজের এলাকায় প্রতি দশটি বাড়ি করে দায়িত্ব নিন। ওই বাড়িতে গিয়ে কর্মীরা বাসিন্দাদের সাথে ভালবেসে কথা বলুন। তাঁদের সমস্যা শুনে পঞ্চায়েতে গিয়ে তা মেটানোর ব্যবস্থা করুন।” দলীয় কর্মীদের অহংভাব দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবেন না বলে জানিয়েছেন মানসবাবু। পঞ্চায়েত এলাকার কী কী উন্নয়ন করা হয়েছে, তা কর্মীদের দেওয়ালে লেখার পরামর্শ দিয়েছেন দলের নেতারা।

Manas Bhunia TMC মানস ভুইঁয়া

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy