বিদ্যুতের বিলে সাশ্রয়ে চালু হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর’ যোজনা। বাড়িতে সৌরবিদ্যুতের পরিকাঠামো গড়ে মিলছে সরকারি ভর্তুকি। পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ‘সূর্য ঘর’ যোজনায় এগিয়েছে গ্রাম। অথচ বিদ্যুতের চাহিদা সবচেয়ে বেশি হওয়া সত্ত্বেও পিছিয়ে শহর। প্রকল্প সম্পর্কে ধারণাই নেই অধিকাংশ শহরবাসীর। কারণ খুঁজে এ বার প্রচারে ঝাঁপাচ্ছে বিদ্যুৎ বণ্টন দফতর।
জেলায় এ বার খড়্গপুর, মেদিনীপুরের মতো শহরে ‘সূর্য ঘর’ যোজনার প্রচারে লিফলেট পৌঁছবে গৃহস্থের বাড়িতে। এক্ষেত্রে ‘মিটার রিডিং’ নিতে যাওয়া বিদ্যুৎ বণ্টন দফতরের কর্মীদের মাধ্যমে ওই প্রচার ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিদ্যুৎ বণ্টন দফতরের দাবি, শহরের ক্ষেত্রে কর্মব্যস্ত দিনে বাড়িতে গিয়ে গৃহকর্তাকে পাওয়া যায় না। বহু বাড়িতে একইসঙ্গে কর্মরত স্বামী-স্ত্রী না থাকায় সমস্যা হয়। খড়্গপুর শহরের ইন্দা নিউটাউনের বাসিন্দা রেলকর্মী রতন পাল বলেন, "আমরা দু'জনেই কর্মরত ঠিকই। কিন্তু বাড়িতে তো লিফলেটও সাঁটিয়ে গেলে নজরে পড়ত। প্রকল্প সম্পর্কে কিছুই জানি না।" ফলে প্রকল্প সম্পর্কে প্রচার আরও বাড়াতে বেছে নেওয়া হবে রবিবার দিনটিকেই।
এক থেকে তিন কিলোওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুতের প্যানেল-সহ যন্ত্রপাতি বসালে কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পে মিলছে ভর্তুকি। সর্বার্ধিক ৭৮হাজার টাকা ভর্তুকি পাওয়া যাবে। যেমন তিন কিলোওয়াটের অধিক সোলার প্যানেল বসালে দু’লক্ষ ১০হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। তাতেই ওই ৭৮হাজার টাকা ভর্তুকি পাওয়া যাবে। তবে এর জন্য মাসিক বিদ্যুৎ খরচে প্রায় দু’হাজার টাকার বেশি সাশ্রয় হবে বলে দাবি করছে বিদ্যুৎ বণ্টন দফতর। এর জন্য রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের মাধ্যমে ঋণের সুবিধাও। কিন্তু তার পরেও গ্রাহকদের মধ্যে সাড়া না মেলাতেই কি প্রচার শুরু হতে চলেছে? বিদ্যুৎ বণ্টন দফতরের রিজিয়োনাল ম্যানেজার নারায়ণ ভৌমিক বলেন, “আমাদের প্রচার চলছে। কিন্তু শহরের ক্ষেত্রে বাড়িতে দিনের বেলায় অনেকে থাকেন না। সেই কারণে আমরা মিটার রিডিংয়ের যে কর্মীরা রয়েছে তাদের মাধ্যমে লিফলেট-সহ প্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা শহরের মানুষকে বোঝাতে রবিবারও বাড়ি-বাড়ি যাব ঠিক করেছি। দেখা গিয়েছে যাদের ১০হাজার টাকা বিল আসে তাঁদের এক হাজার টাকা বিল আসছে। আমরা চাই গ্রামের পাশাপাশি শহরের গ্রাহকরাও এগিয়ে আসুন।”
বিদ্যুৎ বণ্টন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই জেলায় এখনও পর্যন্ত ৯৬টি বাড়িতে এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া গিয়েছে। সেখানে জেলায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে গড়বেতা। ওই ব্লকে ৩০টি বাড়িতে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে। সেখানে খড়্গপুর শহরে মাত্র ছ’টি বাড়িতে এই প্রকল্প চালু করা সম্ভব হয়েছে। যদিও মেদিনীপুরে সংখ্যাটা সামান্য বেশি। সেখানে ১০টির বেশি বাড়িতে এই প্রকল্প চালু করা গিয়েছে।
বিদ্যুৎ আধিকারিকদের একটি অংশ মনে করছেন, শহরে বহুতল ফ্ল্যাট, আবাসনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে এই প্রকল্পের সুবিধা প্রতিটি গৃহস্থকে সরাসরি এখনও দেওয়া যাচ্ছে না। পরিসংখ্যানে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। নারায়ণের কথায়, “ফ্ল্যাট, আবাসনে সরাসরি গৃহস্থকে এই প্রকল্প দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা রয়েছে। কারণ সেখানে তো ছাদের মালিকানা তো কারও একার নয়। আমরা আবাসনের যে অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে তাঁদের কাছে কমন মিটারের জন্য এই প্রকল্প নেওয়ার প্রচার চালাচ্ছি।” খড়্গপুর শহরের খরিদার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষক শ্যামল ঘোষ বলেন, অনেকটা টাকা নিজেদেরও ব্যয় করতে হবে। তার পরে রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সামলাবে কে! আমাদের শহরে যা দূষণ তাতে তো সৌর প্যানেলে তো ধুলোর আস্তরণ পড়ে যাবে।"