বিকল হয়েছে হলদিয়ার অধিকাংশ সিসি টিভি ক্যামেরা। পুজোর আগেও সেগুলি সারানো হবে না কি না, তা নিয়ে সন্দেহ হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই পুরবাসীর নিরাপত্তায় পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠছে।
কারখানা, বন্দর শহর হলদিয়া পূর্ব মেদিনীপুরের এক প্রান্তে রয়েছে। এখানে প্রতিদিন ভিন্ রাজ্য থেকে যেমন প্রচুর পণ্যবাহী গাড়ি আসে, তেমনই হলদির তীরে অবস্থিত এই শহর থেকে ফেরির মাধ্যমে দ্রুত হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা চলে যাওয়া যায়। তাই শহর এবং ফেরিঘাটগুলিতে নিজরদারি চালাতে সিসি ক্যামেরার আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু এই শহরের হলদিয়া, দুর্গাচক ও ভবানীপুর থানা এলাকায় থাকা মোট ২৩৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র ৪৫-৫০টি। সেগুলিও আবার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঝড়বৃষ্টি ও অন্য কারণে মাঝেমধ্যে সংযোগ বিছিন্ন হয় বলে অভিযোগ।
পুুলিশের একটি সূত্রের খবর, প্রায় এক কোটি ৬২ লক্ষ টাকায় বিভিন্ন এলাকায় এমন নজরদারি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল। সাধারণত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই সব নজরদারি ক্যামেরাগুলি অচল হয়েছে বলে অভিযোগ। কিছু ক্ষেত্রে আবার গাড়িতে মাত্রাতিরিক্ত পণ্য (ওভারলোডিং) নিয়ে যাওয়ার সময়েও নজরদারি ক্যামেরার তার ছিন্ন হচ্ছে বলে দাবি।
নয়াচর- কেন্দেমারি, রানিচক-বালুঘাটা, দিনবন্ধুপুর-রায়রায়াচক-সহ একাধিক ঘাট বেশ গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছেন, হলদিয়ার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য ফেরিঘাটগুলিতে নজরদারি ক্যামেরার থাকা অত্যন্ত জরুরি। তবে হলদি নদীর তীরে হনুমান মন্দির ও মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কোস্টগার্ড হোভারপোর্ট এলাকায় ক্যামেরা থাকলেও ফেরিঘাটগুলিতে ক্যামেরা নেই। পুলিশ ১৮টি ফেরিঘাটে ক্যামেরা চাইছে বলে খবর।
হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রের খবর, সিসি ক্যামেরাগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে ‘হলদিয়া ইন্টিগ্রেটেড ডেভলপমেন্ট এজেন্সি’ (হিডাল)। তাদের এই সব কাজ না করা ক্যামেরা অবিলম্বে মেরামত করতে বলা হয়েছে। ওই সংস্থার তরফে প্রশাসনিক ম্যানেজার মলয় মহাপাত্র বলছেন, ‘‘ক্যামেরাগুলি নিয়মিত মেরামত করতে হয়। হলদিয়ায় বিভিন্ন জায়গায় অচল ক্যামেরা সচল করা হচ্ছে। পুজোর আগেই সব ক্যামেরাগুলিসক্রিয় থাকবে।’’