প্লাস্টিকে মুখবন্ধ পৃথিবীর। পরিবেশ বাঁচাতে সারা বিশ্ব প্লাস্টিক বর্জনে জোর দিচ্ছে। তবে উল্টো ছবি পূর্ব মেদিনীপুরের শিল্পশহর হলদিয়ায়। অভিযোগ, এখানকার বিভিন্ন বাজারে ৪০ মাইক্রনের নীচে ‘সিঙ্গল ইউজ় প্লাস্টিক’ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনের নজরদারির অভাবকেই দায়ী করছেন স্থানীয়েরা।
হলদিয়া পুরসভা সূত্রের খবর, এই ‘সিঙ্গল ইউজ় প্লাস্টিকে’র কারণে শহরের একাধিক নিকাশি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। সমস্যা সমাধানে বাজার কমিটিগুলিকে এই প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ।
পুরসভার এক সাফাইকর্মী বলেন, “নর্দমা সাফ করতে গিয়ে দেখা যায় প্লাস্টিকের প্যাকেটের মধ্যেই আনাজের খোসা ফেলে দেওয়া হচ্ছে। পুরসভার তরফে বিভিন্ন জায়গায় লাল এবং সবুজ ডাস্টবিন রাখা হয়েছে। কিন্তু, তাও লাভ হয়নি।” হলদি নদীর তীরে মাছ ও আনাজের বাজারে হলদিয়া বন্দর কর্তৃপক্ষ লাল ও সবুজ আস্তাকুঁড় বসিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী লাল আস্তাকুঁড়ে প্লাস্টিক এবং সবুজে পচনশীল দ্রব্য ফেলার কথা। কিন্তু তাও মানা হচ্ছে না।
মাখনবাবুর বাজারের আনাজ বিক্রেতা স্বপ্না মণ্ডলের দাবি, “পাঁচ-দশ টাকার আনাজ কিনলেও ক্রেতারা আলাদা ক্যারিব্যাগ না পেলে জিনিস নিতে চান না।” পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান পরিষদের তরফে রায়পদ কর, পিনাকী সেনগুপ্ত ও সাহেব আলি একাধিক বার সচেতনতা শিবির করে চটের ব্যাগ বিলি করেছেন। পথসভাও করেছেন। তাতেও বিশেষ ফল মেলেনি।
সমাজকর্মী মানিক ভুঁইয়ার অভিযোগ, “প্যাকেটের মধ্যে থাকা আনাজের খোসা খেতে গিয়ে গরুর পেটে প্লাস্টিক জমছে। গরু অসুস্থ হয়ে মারাও যাচ্ছে।” হলদিয়া পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই অভিযান চালানো হবে। তার আগে নাগরিক সচেতনতাই সবচেয়ে জরুরি।”