দফায় দফায় বৃষ্টিতে সুবর্ণরেখার জল বাড়তে অন্য বর্ষার মতো এ বারও ভেসে গেল গড়ধরা ঘাটের ফেয়ার ওয়েদার সাঁকো। বৃহস্পতিবার সকালে ওই সাঁকো ভেঙে যায়। এর ফলে সাঁকরাইল ও নয়াগ্রাম ব্লকের মধ্যে সরাসরি সরাসরি যোগাযোগ আপাতত বন্ধ। শুরু হয়েছে নৌকা চলাচল। স্থায়ী সেতুর দাবিতে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।
সুবর্ণরেখার এক পারে সাঁকরাইল ব্লকের গড়ধরা। অন্য পারে নয়াগ্রাম ব্লকের দেউলবাড়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর দুর্গাপুজোর পর সেখানে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নতুন করে সাঁকো তৈরি হয়। বর্ষার জল বাড়লেই সেটি ডুবে যায়। সাঁকো সচল থাকলে ঝাড়গ্রাম থেকে দেউলবাড়ের রামেশ্বর মন্দিরের দূরত্ব থাকে ৪৪ কিলোমিটার। সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পরে একটি নৌকা চলে। তাতেই ঝুঁকি নিয়ে বাইক তোলা হয়। তবে গাড়ি পারাবারের উপায় নেই। এদিকে শ্রাবণ মাসে রামেশ্বর মন্দিরে ভিড় বাড়ে। সাঁকো ভেসে যাওয়ার পরে ঝাড়গ্রাম থেকে ওই মন্দির যাওয়ার জন্য অনেকে গোপীবল্লভপুর ঘুরে আসেন। তার জন্য ১৪ কিলোমিটার বাড়তি পথ ঘুরতে হয়। ওই সাঁকোর বরাতপ্রাপ্ত সংস্থার পক্ষে সুধাংশ ঘোষ বলেন, ‘সাঁকো দিয়ে চার চাকার গাড়ি যাতায়াত করে। বৃষ্টির জল বাড়লেই সাঁকো ভেঙে যায়। এ বারও তাই হল।’’
গোপীবল্লভপুর ২ নম্বর ব্লকের জুনশোলার বাসিন্দা তথা সুবর্ণরৈখিক ভাষা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমারকার ভাষা আমার কার গর্ব’-এর সম্পাদক বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “গড়ধরা ঘাটে সুবর্ণরেখার উপর একটি স্থায়ী পাকা সেতু হলে সাঁকরাইল ও নয়াগ্রামের মানুষের বহু দিনের দুর্ভোগের অবসান হবে।” প্রাণীসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী রাজেশ মাহাতোর আশ্বাস, ‘‘গড়ধরা সেতু তৈরির জন্য প্রস্তাব জমা দিয়েছি।’’