Advertisement
E-Paper

তৃণমূলের পর এ বার বিজেপি নেতাদের উপর ‘ডিম থেরাপি’! আগেই সতর্কবার্তা দিয়ে রেখেছিলেন শমীক

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান-সহ পঞ্চায়েত সদস্যরা অঞ্চল অফিসে আর আসছিলেন না বলে অভিযো।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ অগস্ট ২০২৬ ০১:২৮
উত্তেজিত জনতা।

উত্তেজিত জনতা। নিজস্ব চিত্র।

‘ডিম থেরাপি’র অভিমুখ পরিবর্তন হল। তৃণমূলের পর এ বার বিজেপি নেতাদের উপর ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠল। দেখানো হল বিক্ষোভও। অভিযোগ, বিজেপি নেতাদের ডিম ছোড়েন নিচু তোলার বিজেপি কর্মীরাই। ঘটনাটি শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। অভিযোগ, কয়েক জন বিজেপি নেতা তৃণমূল নেতাদের কাছ থেকে কাটমানি নিয়েছেন। পাশাপাশি, বিজেপির কর্মীদের না জানিয়ে তৃণমূলের গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে প্রবেশ করান তাঁরা। এই কারণে সোমবার বিজেপির কয়েক জন নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়।

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান-সহ পঞ্চায়েত সদস্যরা অঞ্চল অফিসে আর আসছিলেন না বলে অভিযো। এর ফলে অঞ্চল অফিসের কাজকর্ম বন্ধ রয়েছে। সোমবার, স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারী, তৃণমূলের প্রধান-সহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঢোকানোর চেষ্টা করলে, তাঁদের উপর ডিম ছোড়েন বিক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে শীতলকুচি থানার পুলিশ। তারা এসে বিজেপি নেতাদের এবং মণ্ডল সভাপতিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এর পর ক্ষোভে ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজারহাটে আইআইটি খড়্গপুর রিসার্চ পার্কে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তোলাবাজি সংক্রান্ত কড়া বার্তা দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ‘ডিম থেরাপি’-র বিষয় উল্লেখ করে তাঁর সতর্কবার্তা, ‘‘এই ডিম কিন্তু ঘুরে গিয়ে অন্য দিকেও পড়তে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে। আমাদের দলকেও মনে রাখতে হবে।’’ এর এক দিন পরেই সোমবার শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিজেপির কয়েক জন নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ উঠল।

বিজেপি নেতাদের উপর ‘ডিম থেরাপি’-র ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয় বিজেপি কর্মী অমল বসাক বলেন, “বিজেপির কয়েক জন নেতা তৃণমূল গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের থেকে কাটমানির টাকা খেয়ে তাঁকে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে সহযোগিতা করছিলেন। তাঁদের মধ্যে মণ্ডল সভাপতি পবিত্র অধিকারীও রয়েছেন। যে গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এলাকার কোনও কাজে লাগবে না, তাঁকে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকতে দেবে না গ্রামের মানুষ। তাই তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।”

এই প্রসঙ্গে বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, “গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের ঢোকার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেয় এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। সেই সময় বিজেপি নেতৃত্বরা পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়েছিল।” তবে বিজেপি নেতাদের ডিম ছোড়ার কোনও খবর তাঁর কাছে নেই। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

মণ্ডল সভাপতি পবিত্র তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “চার তারিখের পরে যারা নতুন করে বিজেপির ঝান্ডা ধরেছে তারাই ঝামেলা পাকাতে এসেছে। এলাকায় উন্নয়ন থমকে ছিল মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল তাই গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে কাজের গতি আনতে প্রধান ও অন্যান্য সদস্যদের অঞ্চল অফিসে থাকাটা জরুরি। আমরা যারা পুরনো বিজেপি কর্মী তারাই এই কাজটি করছিলাম।”

Sitalkuchi Cooch Behar

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy