আজ, শনিবার থেকে রাজ্যে শুরু হচ্ছে জনগণনা। উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই জনগণনা সূচনায় প্রশাসনের তরফে সরকারি অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়েছে। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে জনগণনায় উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় জন সংখ্যার বণ্টনে কোনও পার্থক্য হয় কি না, তাতে নজর রয়েছে বিভিন্ন মহলের।
জনগণনার ভিত্তিতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির পুরসভা থেকে বিধানসভা, লোকসভা আসনের নানা বিন্যাসও হবে। তবে জনগণনার প্রক্রিয়া নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। যেমন যে কর্মীদের কাছে আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল ফোন নেই, তাঁরা কীভাবে জনগণনার পোর্টালে তথ্য তুলবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনগণনার নানা পদ্ধতি নিয়েও চর্চা শুরু হয়েছে। যেমন কারও বাড়িতে বড় গোয়ালঘর থাকলে সেটিকেও পৃথক গণনা গৃহ চিহ্নিত করে তথ্য আপলোড করতে হবে।
বেশ কিছু জেলায় জনগণনার প্রশিক্ষণ এখনও শেষ হয়নি। যেমন উত্তর দিনাজপুর, জেলার বেশ কিছু ব্লকে এ দিনও পঞ্চায়েত, পুরকর্মী ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর। জনগণনার কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মীকে অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশন কাজেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, তাঁরা এক সঙ্গে ওই দুই কাজ ঠিকমতো করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসনের অন্দরে প্রশ্ন উঠেছে।
আজ, শনিবার থেকে মূলত শুরু হচ্ছে স্ব-গণনা। অর্থাৎ বাসিন্দারা নিজেরাই পোর্টালে নিজেদের তথ্য আপলোড করতে পারবেন। পরে সেটি যাচাই হবে। তবে বেশ কিছু তথ্য নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। একই বাড়িতে যদি দু’টি রান্নাঘর থাকে তবে সেটিকে দু’টি পৃথক জনগণনা গৃহ অথবা পরিবার চিহ্নিত হবে। বাড়িতে বড় মন্দির, গোয়ালঘর থাকলে সেগুলি আলাদা জনগণনা গৃহ চিহ্নিত হবে এবং তথ্য দিতে হবে। বাড়িতে যদিও এক ব্যক্তির দুই স্ত্রী থাকে তবে দু’টি জনগণনা গৃহ চিহ্নিত করতে হবে বলে খবর। এমন নানা তথ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি।
উত্তরের জেলার এক শিক্ষকের কথায়, ‘‘বাড়িতে ছোট মন্দির থাকলে তথ্য দিতে হবে না, কিন্তু মাঝারি বা বড় মন্দির থাকলে পৃথক গৃহ চিহ্নিত করে তথ্য দিতে হবে। কোনটা ছোট এবং কোনটা মাঝারি এটা যাচাই করবে কে?’’ প্রশাসনের দাবি, কোথাও কোনও তথ্য বুঝতে কারও সমস্যা হলে সরকারি ভাবে সাহায্য করা হবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন দফতরের কর্মীদের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঠিক করে, তাঁদের নিজস্ব স্ব-গণনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।