বিসর্জনের ঘাট পরিদর্শন করতে নৌকায় উঠেছিলেন জলপাইগুড়ির বিজেপি বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। জলপাইগুড়ি শহরকে দুই ভাবে ভাগ করা করলা নদী দিয়ে যাচ্ছিল নৌকা। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তথা এনডিআরএফের নৌকা তির বেগে চলে। সচরাচর গতি কমে না। কিন্তু মাঝ করলায় গিয়ে নৌকা যেন খানিকটা গতিহীন।
কী হল দেখতে নদীর জলে উঁকি দিতে অবাক সকলে। জলের নীচে আবর্জনার স্তূপ। নৌকায় বসেই বিধায়ক অনন্তদেব ফোন করেন পুর-প্রশাসনের আধিকারিকদের। নির্দেশ দিলেন, দ্রুত করলা নদী সাফাইয়ের। বেঁধে দিলেন সময়সীমাও।
সেই নির্দেশে কার্যত বিপাকে জলপাইগুড়ি পুরসভা কর্তৃপক্ষ। প্রায় ২০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকায় শহরের মধ্যে দিয়ে বয়েছে নদী। এত দীর্ঘ নদীখাত পরিষ্কার করার পরিকাঠামো বা অর্থ পুরসভার রয়েছে কি, তার উত্তর খুঁজছেন পুরকর্তারা।
করলা নদীর নাব্যতা ফেরানো নিয়ে নানা পরিকল্পনা হয়েছে। নদীর গতিপথ সম্প্রসারণও করা হয়েছে। অভিযোগ, তবু নদীর হাল ফেরেনি। সম্প্রতি রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রীকে করলা নদী সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন বিধায়ক।
তবে নদীর পরিস্থিতি এতদিন বাইরে থেকে দেখে কিছুই বোঝা যায়নি বলে মেনেছেন বিধায়ক। তিনি বলেন, “মাঝনদীতে গিয়ে অবাক হয়েছি। শহরের সব ময়লা কি করলা নদীতেই ফেলা হয়? মাঝনদীতে দেখলাম সামান্য জলস্তর, নীচে আবর্জনার স্তূপ। এ ভাবে চলতে পারে না। নদীটিকে বাঁচাতে হবে। পুরসভাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি।”
পুরসভার দাবি, করলা নদী সাফাইয়ে অভিযান চলে মাঝেমধ্যে। তখন নদীর জলে ভাসা ময়লা সরানো হয়। নদীখাতে জমে থাকা আবর্জনা তথা পলি সরাতে গভীরে খনন করতে হবে। কোন কোন জায়গা থেকে ময়লা সরানো হবে, সেই পরিকল্পনা করতে হবে। না হলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তা নিয়ে সেচ দফতরের পরামর্শ প্রয়োজন। পুরসভা সূত্রের দাবি, জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।