প্রকৃতিকে নিজেদের স্বার্থে যত খুশি ব্যবহার করা যায়, কিন্তু পরিণতি থেকে রেহাই মেলে না। প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয়। নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই সতর্কবার্তাই আরও এক বার সামনে এনেছে। অথচ মালদহ শহরের বুক চিরে বয়ে চলা মহানন্দাকে ঘিরে সেই সতর্কবার্তা যেন কারও কানে পৌঁছচ্ছে না। এক সময়ের স্রোতস্বিনী নদী আজ ক্রমশ পরিণত হচ্ছে নোংরা জলের নালায়।
ছোটবেলায় যে মহানন্দায় স্বচ্ছ জল এবং স্রোতের দেখা মিলত তার অধিকাংশ এখন স্মৃতি। কমেছে গভীরতা। এক সময় নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পাশাপাশি ছোট ইলিশ মিলত। এখন নদীর জল এতটাই দূষিত যে সেখানে জলজ প্রাণবৈচিত্র্যও বিপন্ন। শহরের একাধিক নালা দিয়ে প্রায় প্রতিদিনই অপরিশোধিত নোংরা জল মহানন্দায় গিয়ে পড়ছে। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও নার্সিংহোমের বর্জ্যজলও যথাযথ পরিশোধন ছাড়াই নদীতে মিশছে। ফলে বাড়ছে জলদূষণ। নদীর জলে জীবাণুর মাত্রা বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে চর্মরোগ-সহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
দূষণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে দখলও। মহানন্দার দুই পারে নিয়মিত বেআইনি নির্মাণ চলছে। নদীতে পিলার দিয়ে পাকা বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। রাজনৈতিক প্রভাব এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রশ্রয় ছাড়া এমন দখল সম্ভব নয়। এ সব নিয়ে শুধু প্রশাসন নয়, দায় এড়াতে পারেন না সাধারণ মানুষও। পুজোর শুকনো ফুল, নির্মাল্য, বিসর্জনের সামগ্রী, পলিথিন ও গৃহস্থালির বর্জ্য মহানন্দায় ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। মহানন্দা, সাহাপুর ও বাইপাস সেতু থেকেও নিয়মিত বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে। নদীকে এ ভাবে হত্যা করলে এক দিন সেই নদীই আমাদের জীবনকে বিপন্ন করবে। অবিলম্বে মহানন্দার দখলমুক্তি, নদী সংস্কার, বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা এবং নিয়মিত নজরদারি না হলে মালদহ শহরকে তার চরম মূল্য দিতে হতে পারে।
লেখক: পরিবেশকর্মী, মালদহ