E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ঘরছাড়া জগদীশ, শুনশান বসতবাড়ি

জগদীশ এখন আর তৃণমূলে নেই। তিনি এনসিপিআইতে যোগ দিয়ে এনডিএ'কে সমর্থন করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। এ দিন সে ছবি তিনি ফেসবুকে পোস্টও করেছেন। তবে এটাই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ নয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:৪৭
সিতাইয়ে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার তালাবন্ধ বাড়ি।

সিতাইয়ে জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার তালাবন্ধ বাড়ি। — নিজস্ব চিত্র।

খুব বেশি দিন আগের কথা নয়। মাস চারেক। লোকে বলতেন, তিনিই সিতাইয়ের শেষ কথা। এতটাই তাঁর জনপ্রিয়তা! এমনও শোনা গিয়েছিল, কোচবিহার জেলার সর্বত্র হারলেও তৃণমূল তাঁর দৌলতেই জয়ী হবে সিতাইয়ে। সেই কথা সত্যি করে ভোটে অবশ্য জয়ীও হয়েছেন জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তাঁর স্ত্রী সঙ্গীতা রায় এখন সিতাইয়ের বিধায়ক। কিন্তু মাস চারেক ধরে কার্যত তালাবন্দি হয়ে পড়ে আছে সিতাইয়ের জগদীশের বাড়ি। যে বাড়িতে এক সময়ে প্রতিদিন মানুষের ভিড় লেগে থাকত, সেই বাড়ি এখন শুনশান। প্রশ্ন উঠছে, জনপ্রিয়তা যখন এতটাই ছিল, তা হলে বাড়ি ফিরতে পারছেন না কেন জগদীশ? বিরোধীদের অভিযোগ, ভয় দেখিয়েই এত দিন ক্ষমতা ধরে রেখেছেন জগদীশ। জগদীশ অনুগামীদের অবশ্য দাবি, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছেন। জগদীশ অশান্তি চান না বলেই বাড়ির বাইরে থাকছেন।

জগদীশ এখন আর তৃণমূলে নেই। তিনি এনসিপিআইতে যোগ দিয়ে এনডিএ'কে সমর্থন করেছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করেন তিনি। এ দিন সে ছবি তিনি ফেসবুকে পোস্টও করেছেন। তবে এটাই তাঁর প্রথম সাক্ষাৎ নয়। এর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর নৈশ ভোজে যোগ দিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর বাবা শিশির অধিকারীর সঙ্গেও দেখা করেছিলেন তিনি। কিছু দিন আগে স্ত্রীকে নিয়ে রাতের দিকে সিতাইয়ের বাড়ি ফিরেছিলেন জগদীশ। সে খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভ শুরু হয় জগদীশের বাড়ির সামনে। পরিস্থিতি খারাপ দিকে যাচ্ছে বুঝতে পেরে ওই রাতেই পুলিশি পাহারায় বাড়ি ছাড়তে হয় জগদীশ ও তাঁর স্ত্রীকে। এ দিন অবশ্য জগদীশ জানান, কোচবিহার জেলার উন্নয়নের বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী চেয়েছিলেন৷ তা তুলে দিয়েছেন তিনি। সিতাইয়ের বাড়ি ফেরার বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন জগদীশ। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছেন। না হলে তো আর ভোটে জয়ী হওয়া সম্ভব হত না। কিছু লোক অহেতুক সমস্যা তৈরি করছে। আশা করি দ্রুত বাড়ি ফিরতে পারব।’’

এই প্রসঙ্গে বিজেপির কোচবিহার জেলার সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, ‘‘যে যেমন কর্ম করবে, তেমন ফল পাবে। এখানে আমাদের কিছু করণীয় নেই।’’ জগদীশের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে ফরওয়ার্ড ব্লকও। ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রাক্তন সাংসদ নৃপেন রায় বলেন, ‘‘কেউ বাড়ি ছাড়া হয়ে থাকুক, এটা আমরা চাই না। কিন্তু সাধারণ মানুষের সঙ্গে অন্যায় কাজ করলে ক্ষোভের মুখেও পড়তে হবে। তৃণমূল সাংসদ তো মানুষের উপকার করেননি, ক্ষতি করেছেন।’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
TMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy