চা বাগানের মধ্যবর্তী রাস্তা। আশপাশে বাগানের কাজ করেছেন শ্রমিকেরা। এ সময়ে সবার চোখের সামনেই রাস্তার ধারে গরু শিকার করছে একটি চিতাবাঘ। মেটেলি ব্লকের নাগেশ্বরী চা বাগানের এই ভিডিয়ো (আনন্দবাজার পত্রিকা যার সত্যতা যাচাই করেনি) সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে হইচই।
ডুয়ার্সের বিভিন্ন চা বাগানেই চিতাবাঘের উপদ্রব রয়েছে। অনেক সময় এই চিতাবাঘগুলি স্থায়ী ভাবে বাগানেই আস্তানা করে। বাগানের সংকীর্ণ নালাতে চিতাবাঘ শাবক প্রসব করে। বিভিন্ন সময়ে সেগুলি খাবারের সন্ধানে শ্রমিক মহল্লাতে ঢুকে পড়ার অভিযোগ ওঠে। কিছু দিন আগেই নাগরাকাটা, বানারহাটের কিছু এলাকাতে চিতাবাঘের আক্রমণে পরপর শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে তা সাধারণত ঘটেছে সবার অলক্ষ্যে। এ বার একেবারে দিনের আলোয় কার্যত শ্রমিকদের চোখের সামনে গরু শিকার করল চিতাবাঘ।
ডুয়ার্সে বন্যপ্রাণ-মানুষ সংঘাত রোধে কাজ করা পরিবেশপ্রেমী সংগঠন স্পোরের কর্নাধার শ্যামাপ্রসাদ পাণ্ডে বলেন, ‘‘চা বাগানগুলিতেই চিতাবাঘের স্বাভাবিক বাসস্থান রয়েছে। সেখানে অবাধে গবাদি পশু ছেড়ে রাখা উচিত নয়। পাশাপাশি, শিশু কিংবা বড়দেরও চলাচলের ক্ষেত্রে সর্তকতা বজায় রাখতে হবে। চা বাগানে চিতাবাঘের বর্তমান অবস্থান বুঝতে সমীক্ষা খুবই জরুরি।’’ মালবাজারের পরিবেশপ্রেমী সংগঠন মাউন্টেন অ্যান্ড ট্রেকার্স ফাউন্ডেশনের কর্ণধার স্বরূপ মিত্র বলেন, ‘‘বাগানগুলিতে ঘনঘন চিতাবাঘের আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে।’’ বন দফতর সূত্রে খবর, চা বাগানের সমীক্ষার প্রস্তাব আগেই ঊর্ধ্বতন মহলে পাঠানো হয়েছে। নাগেশ্বরী চা বাগানের ঘটনার ক্ষেত্রে বন দফতর নজর রাখছে। স্থানীয় স্তর থেকে আবেদন এলে ওই এলাকাতে চিতাবাঘ ধরতে খাঁচাও বসানো হবে বলে বন দফতর সূত্রে খবর।