উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টিতে জলস্তর বাড়ছে গঙ্গা, ফুলহার নদীর। জলস্তর বাড়তেই রাতের ঘুম উড়েছে মালদহের ভূতনি, রতুয়ার বিলাইমারির নদীতীরের বাসিন্দাদের। ভাঙন রোধে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটির বস্তা ফেলা হলেও কাজের মান নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ, নিম্নমানের ভাঙন রোধের কাজ হয়েছে ভূতনিতে। শনিবার নতুন করে ভূতনিতে গঙ্গার পাড় ভাঙায় ভাঙন নিয়ে উদ্বেগে গ্রামবাসীরা।
ভাঙন রোধের কাজে কোনও রকম অনিয়ম মানা হবে না বলে জানিয়েছেন রাজ্যের সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু। তিনি বলেন, ‘‘তৃণমূল-আমলে ভাঙন রোধের নামে কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে। রাজ্যের বিজেপি সরকার মালদহ, মুর্শিদাবাদের ভাঙন রোধে স্থায়ী ভাবে কাজ করবে। ভূতনিতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’’ সেচ দফতরের দাবি, গঙ্গা, ফুলহার, মহানন্দা— তিন নদীরই জল বাড়ছে। তবে এখনও জলস্তর বিপদসীমার নীচে রয়েছে।
মানিকচক, রতুয়া-১ এবং বৈষ্ণবনগরে গঙ্গা, ফুলহার নদীতে ভাঙন ফি-বছরের। গত মরসুমে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল ভূতনি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন ভূতনির উত্তর ও দক্ষিণ চণ্ডীপুর এবং হীরানন্দাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের লক্ষাধিক মানুষ। এ বার ভূতনির পশ্চিম রতনপুর থেকে কেশরপুর কলোনি পর্যন্ত ৪০০ মিটার এলাকায় ৫৯ লক্ষ টাকা খরচে অস্থায়ী ভাবে ভাঙন রোধের কাজ করা হয়।
মাটির বস্তা ফেলে কাজ হলেও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিটুর জেলা সম্পাদক তথা মানিকচকের বাসিন্দা দেবজ্যোতি সিংহ। তিনি বলেন, ‘‘টাকা খরচ করে অস্থায়ী ভাবে কাজ হলেও ভাঙন ঠেকানো নিয়ে সংশয় রয়েছে। কাজের মান খারাপ।’’
এ দিন সকাল থেকে ভূতনির কালুটোনটোলা, পশ্চিম রতনপুর, কেশরপুর, বসন্তটোলায় ভাঙন হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের। গ্রামবাসী হীরালাল মণ্ডল বলেন, ‘‘ভাঙন হয়। ভাঙন রোধের কাজও হয়। তাতে ঠিকাদার, নেতারা ফুলে-ফেঁপে উঠলেও বর্ষায় ফি-বছর আমাদের জলে ভাসতে হয়।’’