ন্যাশনাল অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিস (এনএবিএল) স্বীকৃত রিপোর্ট ছাড়া ক্ষুদ্র চা চাষিদের কাছ থেকে কাঁচা চা পাতা কেনা বন্ধ করেছে উত্তরবঙ্গের বটলিফ কারখানার মালিকেরা। যার ফলে গভীর সঙ্কটের মুখে পড়েছেন ক্ষুদ্র চা চাষিদের পাশাপাশি এর উপরে নির্ভরশীল কয়েক হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে বুধবার লাটাগুড়িতে কাঁচা চা পাতা ভর্তি গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় চা পাতা ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র চা চাষিদের একাংশ। রামসাই-লাটাগুড়ি ক্যানাল রাস্তাতেও কাঁচা চা পাতা ভর্তি কয়েকটি গাড়ি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। খবর পেয়ে ক্রান্তি ফাঁড়ির পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং গাড়িগুলোকে ফেরত পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিক্ষোভকারীদের প্রমথ বিশ্বাস, মৃণাল রায়, অমল রায়েরা জানান, চায়ের ভরা মরশুমে বটলিফ কারখানার মালিকেরা কোনও রকম আলোচনা না করেই চা পাতায় ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করার কারণ দেখিয়ে যে ভাবে তাঁদের থেকে চা পাতা না কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা দুর্ভাগ্যজনক। ক্ষুদ্র চা চাষিরাই কি চা বাগানে ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করছেন, বড় চা বাগানগুলিও কি কীটনাশক প্রয়োগ করছে না— সেই প্রশ্নও তুলেছেন তাঁরা। তা ছাড়া যে সব ক্ষুদ্র চাষিদের দু বিঘা বা তিন বিঘা চা বাগান রয়েছে তাঁরা ওই রিপোর্ট সংগ্রহ করবেন কী ভাবে, পরীক্ষার পরিকাঠামো না-থাকায় এ রকম ক্ষুদ্র চা চাষিরা সেই রিপোর্ট জোগাড়ে যে অর্থের প্রয়োজন তা-ই বা মেটাবেন কী ভাবে প্রভৃতি প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাই দ্রুত যাতে উত্তরবঙ্গেই স্বল্প খরচে সেই রিপোর্ট সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয় সেই বিষয়টিও এ দিন তুলে ধরেন ক্ষুদ্র চা চাষিরা। তাঁদের সমস্যার বিষয়টি বিবেচনা সাপেক্ষে রাজ্য সরকার যাতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেই আর্জিও জানিয়েছেন তাঁরা। যদি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয় তা হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতির উপর যে একটা বড় প্রভাব পড়বে সেই আশঙ্কার কথাও শুনিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
এ বিষয়ে নর্থ বেঙ্গল টি প্রোডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক নীরজ পোদ্দার জানান, চায়ে কীটনাশকের মাত্রা বেশি থাকলে কোনও সংস্থাই চা কিনতে চায় না। ক্ষুদ্র চা চাষিদের ক্ষতি করা কখনওই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। এতে তো তারাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘‘কাজেই রাসায়নিকের বিষয়টি নিয়ে সবাইকেই একযোগে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে।’’