আজ, শুক্রবার ষষ্ঠীর বিকাল থেকেই শহর জুড়ে যান নিয়ন্ত্রণ শুরু হচ্ছে বলে জানিয়ে দিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার চেলিং সিমিক লেপচা। ৭ অক্টোবর থেকে ১৩ অক্টোবর অবধি যান নিয়ন্ত্রণ জারি থাকবে। পুজোর দিনগুলিতে বিকেল ৪টা থেকে ভোর ৪টা অবধি নিয়ন্ত্রণ বিধি চলবে। ষষ্ঠী দিন বিধি থাকছে শুধু রাত ২টা অবধি।
শহরের মধ্যের কিছু রাস্তাতে এবারও সমস্ত ধরনের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলেছে পুলিশ। আর তা কড়াকড়িভাবে কার্যকরী হলে বাসিন্দাদের গাড়ি বা বাইক নিয়ে ঘুরপথে শহরের বিভিন্ন মন্ডপের ধারেকাছে পৌঁছতে হবে। এতে অলিগলির রাস্তায় যানজট তো বটেই বাসিন্দাদের ভোগান্তির সম্ভাবনাও থেকে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘‘আমরা হেঁটে শহরে মণ্ডপে মন্ডপে যে বাসিন্দারা ঘুরবেন, তাঁদের সুবিধার উপর বেশি জোর দিচ্ছি। কলকাতায় তো বাসিন্দারা ৫/৬ কিলোমিটার হেঁটে ঘুরে ঘুরে পুজো দেখেন। তবে যান চলাচল পরিস্থিতি, রাস্তার লোকসংখ্যা দেখেই আমরা নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করব। লোক কম থাকলে রাস্তায় স্বাভাবিকভাবে ট্রাফিক চলবে।’’ কমিশনার জানান, আমরা চেষ্টা করব, বড় এবং আকর্ষনীয় পুজো মণ্ডপগুলির আশেপাশে গাড়ি-বাইক থেকে যানজট যাতে না হয়। বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা চাই।
পুলিশ জানিয়েছে, হিলকার্ট রোড, সেবক রোডের একাংশ, বিধানরোড, বর্ধমান রোডের একাংশ, স্টেশন ফিডার রোডের একাংশ, কাছারি রোড, উড়ালপুলে সমস্ত রকম গাড়ি নির্ধারিত সময়ে নিয়ন্ত্রণ জারি থাকবে। প্রয়োজন বুঝে কোনও কোনও রাস্তার আরেক পাশ খুলেও দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পুলিশের নির্দেশিকা অনুসারে, হরেন মুখোপাধ্যায় রোড এবং বিধান রোড সংযোগকারী সমস্ত রাস্তা, চাচ রোড, প্রধাননগর নিবেদিতা রোড, নীলনলিনী স্কুল রোড, ওল্ড মাটিগাড়া রোডে বাইক-সহ সমস্ত গাড়ি চলাচল করা যাবে না। তাতে শহরের এক পাশের বাসিন্দাদের প্রচুর ঘুরপথে শহরের অন্যপ্রান্তে যেতে হবে। তেমনই, বাসিন্দাদের এনজেপি স্টেশনে যেতে হলে বড় রাস্তার বদলে অলিগলির রাস্তা ধরতে হবে। এ ছাডা, লোকাল, কলকাতা-সহ দূরপাল্লার বাস ধরার জন্য এবার বাসিন্দাদের জলপাই মোড় বা দার্জিলিং মোড়ের বদলে নৌকাঘাট মোড় এবং মাটিগাড়া পরিবহণ নগরে যেতে হবে।
কমিশনার জানান, শহরকে ঘিরে রয়েছে ইস্টার্ন বাইপাস, নৌকঘাট মেডিক্যাল কলেজের রাস্তা এবং ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। ট্রাক, ভারী গাড়ি, বাসের গাড়ি চালকেরা এই রাস্তাগুলি ধরে একদিক থেকে অন্যদিকে যেতে পারবেন। বাইরের শহরের বাসিন্দারাও এই রুটগুলি ধরে শহরে আসতে পারবেন। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য রাস্তায় দু’হাজারের বেশি পুলিশ অফিসার, কর্মী রাস্তায় থাকবেন। সবেচেয় বেশি থাকছেন সাদা পোশাকের পুলিশ কর্মীরা। বহু মন্ডপে নজরদারির জন্য সিসিটিভি থাকছে।