ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বাদ যাওয়া নাগরিকদের নাম তালিকায় পুনর্বহালের পরেই হোক পুরভোট, এই দাবিতে বিরোধীরা আগেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিয়েছে। এ বার কলকাতা পুরসভার নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাশাসকের দফতরে সর্বদল বৈঠকের পরে সিপিএম, কংগ্রেস, মমতা-তৃণমূল দাবি করল, বিধানসভা ভোট যে ভোটার তালিকায় হয়েছে, সেই একই তালিকায় পুরভোট করাতে চাইছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট বৈঠক এবং সেখানে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছে বিরোধীরা। বিজেপির অবশ্য দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযোগ করছে বিরোধীরা। পাশাপাশি, প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, পুরভোটের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক আগে থেকে পদক্ষেপ করা হয়েছে। অভিযোগ-আপত্তি জানানোর দরজা দীর্ঘ দিন খোলা ছিল। ফলে, বিধি মেনেই সব হচ্ছে।
সূত্রের খবর, আগামী ২৮ নভেম্বর কলকাতা, হাওড়া-সহ কয়েকটি পুরসভায় ভোট করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন (এসইসি)। নবান্ন প্রস্তাব মানলে দিন কয়েকের মধ্যেই বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এ দিন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেনারেল) মনোজিৎ যাদবের উপস্থিতিতে সর্বদল বৈঠক হয়েছে। বৈঠকের অন্যতম বিষয় ছিল, ভোট-কেন্দ্রের খসড়া তালিকা, খসড়া ভোটার তালিকার প্রকাশ। বৈঠকের প্রথমার্ধে কলকাতা পুরসভার ১ থেকে ৮ নম্বর বরো এবং দ্বিতীয় ভাগে ৯ থেকে ১৬ নম্বর বরো ছিল।
বৈঠকের পরে বিরোধীরা এক যোগে সরব হয়েছে। সিপিএম-সহ বিরোধীদের দাবি, খসড়া তালিকা দিয়েছে কমিশন। কিন্তু বুথ ও ভোট-কেন্দ্র ভিত্তিক কোনও তালিকা সেখানে নেই। স্বচ্ছতার প্রশ্নেই ভোট-কেন্দ্র ভিত্তিক তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করার দাবি জানিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) কাছেও লিখিত আর্জি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর আরও অভিযোগ, “এই সর্বদল বৈঠক আসলে প্রহসন! বরো এবং বুথ বিন্যাস কিংবা ওয়ার্ডগুলির সংরক্ষণ সংক্রান্ত কোনও স্পষ্ট তথ্য না-দিয়েই তড়িঘড়ি ভোট করাতে চাইছে কমিশন।” সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত দত্তের অভিযোগ, “অভাব-অভিযোগ শোনা হয়নি। মাঝ পথে আধিকারিক বৈঠক ছেড়ে চলে গেলেন। গত এসআইআর-এ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ভোটারের (কলকাতা পুর-এলাকায়) নাম বাদ গিয়েছে। ওই ভোটারদের সুযোগ না-দিয়েই ভোট করানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে।’’ মমতা-তৃণমূলের তরফে বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়ও বলেছেন, ‘‘আদালতে ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে মামলা উঠেছে। তার মধ্যেই এই বৈঠক ডাকা হল! খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অথচ তা নিয়ে আপত্তি-অভিযোগের কথা জানানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি।’’ বৈঠকের কোনও ভিডিওগ্রাফ বা কার্যবিবরণী নথিভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। যদিও বিজেপি নেতা চিত্তরঞ্জন দে’র বক্তব্য, “বিরেধীরা রাজনীতি করতেই বিরোধিতা করছেন। সরকারি আধিকারিক সকলের বক্তব্য শোনার পরেই উঠেছেন। আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যোগ্য ভোটারদের কেউ বাদ থাকলে পুরভোটে তাঁদের সংযুক্ত করার কাজ চলছে।”
এরই মধ্যে, এসইসি সূত্রের বক্তব্য, বিধি অনুযায়ী, কলকাতা এবং হাওড়া পুরসভায় আসন পুনর্বিন্যাসের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। ফলে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং দুই পুরসভা যে তালিকা তাদের দিয়েছে, তা মেনেই ভোট করাবে কমিশন। তা ছাড়া খসড়া পুনর্বিন্যাস তালিকা, আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত তথ্যের উপরে সাধারণের আপত্তি-অভিযোগ গ্রহণ করার প্রক্রিয়া হয়েছে বিধি মেনেই। সম্ভাব্য ১০ নভেম্বর ভোট-কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পেতে পারে। তা ছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন, তা ধরেই ভোট করাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। অবশ্য বিচারবিভাগীয় ট্রাইবুনালে সংশ্লিষ্ট পুর এলাকাগুলির যে ভোটারদের নামের ইতিবাচক নিষ্পত্তি হবে, তাঁরা মনোনয়ন প্রক্রিয়া পর্যন্ত ভোটার তালিকাভুক্ত হবেন।