রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) শাখা সংগঠনের নাম করে হোটেল-ধাবার বাইরে বোর্ডে মালিকের নাম লিখে রাখার ফরমান জারির অভিযোগ উঠল আসানসোলে। আবার শিলিগুড়িতে বিরিয়ানির দোকানের নাম পাল্টানোর দাবিতে অশান্তি করার অভিযোগ উঠল বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সরব বিরোধীরা।
আসানসোল বাইপাসের ধারে বেশ কিছু হোটেল-ধাবায় শনিবার সকালে গিয়ে কয়েক জন দাবি করেন, তাঁরা ‘মুখ্য মার্গ’ সংগঠনের তরফে এসেছেন। মালিকদের নাম হোটেলের বাইরে বোর্ডে লিখে রাখার কথা বলেন তাঁরা। নিজেদের সংগঠনের নেতা বলে পরিচয় দিয়ে সত্যজিৎ অধিকারী, অশোক ঘোষেরা দাবি করেন, তাঁরা আরএসএস অনুমোদিত সংগঠন। শ্রাবণ মাসে অনেক ভক্ত শিবমন্দিরে জল ঢালতে যান। তাঁদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, কোনটি, কোন সম্প্রদায়ের মালিকের হোটেল, তা তাঁরা বুঝতে পারেন না। তাতে তাঁদের অসুবিধা হয়। তাঁদের দাবি, ‘‘হোটেলের নাম যা-ই হোক, বাইরে মালিকদের নাম লিখে রাখলে ভক্তেরা পছন্দসই জায়গায় খেতে পারেন। তাই হোটেল মালিকদের এই অনুরোধ করা হয়েছে।’’ স্থানীয় দু’টি হোটেলের মালিক বলেন, ‘‘এমন আইনের কথা জানা নেই। তাই এই ফরমান নিয়ে আমরা চিন্তিত। কিন্তু এখনই এ নিয়ে বিবাদে জড়াতে চাই না।’’
সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য, আসানসোলের নেতা পার্থ মুখোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাজ্য সরকার এমন নির্দেশিকা দেয়নি। উড়ে এসে জুড়ে বসা সংগঠনের ফরমান হোটেল মালিকদের উপেক্ষা করা উচিত।’’ কংগ্রেসের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তীর অভিযোগ, ‘‘উগ্র হিন্দুত্ববাদ প্রচারের জন্য এ সব করা হচ্ছে।’’ আরএসএসের মধ্যবঙ্গ সহ-প্রান্ত কার্যবাহক অচ্যুত হাজরার যদিও দাবি, ‘মুখ্য মার্গ’ তাঁদের একটি কর্মসূচির নাম। কিন্তু সে নামে তাঁদের অনুমোদিত সংগঠন নেই। তিনি বলেন, ‘‘দোকানের বাইরে মালিকের নাম লেখা থাকছে কি না, তা দেখা আমাদের কাজ নয়। কারা এই প্রচার করছে, জানা নেই।’’
নিজেদের বিজেপি কর্মী বলে পরিচয় দিয়ে শুক্রবার রাতে কয়েক জন যুবক শিলিগুড়ির হায়দরপাড়া বাজার লাগোয়া বিরিয়ানির দোকানে হাজির হন। দোকানের বোর্ডে ‘হাজি’ শব্দ লেখা যাবে না, এই দাবিতে তাঁরা ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পৌঁছন স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যেরা। পুলিশ ডাকা হয়। কেন নাম বদলাতে হবে, সদুত্তর দিতে পারেননি ওই যুবকেরা। তবে শনিবার শিলিগুড়ি পুরসভায় বজরং দল লিখিত অভিযোগ করে, ওই দোকানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মাংসের বিরিয়ানি বিক্রি করা হচ্ছে। পুরসভার কমিশনার বীরবিক্রম রাই বলেন, ‘‘এটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। অভিযোগ দার্জিলিংয়ের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানাতে হবে।’’ শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘‘আমার কাছে সরাসরি কেউ আসেননি। কেউ অভিযোগ জানালে, দলের জেলা কমিটিকে জানাব।’’