নতুন বিধানসভায় রীতি মেনে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) দায়িত্ব যেতে চলেছে বিরোধী দলের হাতেই। পরিষদীয় সূত্রের খবর, বিধানসভায় স্বীকৃত প্রধান বিরোধী দল (অর্থাৎ বিদ্রোহী) তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও বর্ষীয়ান বিধায়ককে পিএসি-র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দেখা যেতে পারে। সরকারি বিভিন্ন দফতরের আয়-ব্যয় ও হিসেব পরীক্ষার এক্তিয়ারপ্রাপ্ত এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটির জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে বিবাদ ছাড়াই। নিয়ম মেনে এর পরে কমিটির চেয়ারম্যান ঘোষণা করবেন বিধানসভার স্পিকার।
বিধানসভায় বিদ্রোহী ও কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের টানাপড়েন তুঙ্গে। তবে পিএসি-র ২০ সদস্যের জন্য শাসক ও বিরোধী মিলিয়ে ২০ জনেরই মনোনয়ন জমা পড়েছে। পরিষদীয় একটি সূত্রের ইঙ্গিত, স্বীকৃত বিরোধী দলের তরফে সমর মুখোপাধ্যায়, গোলাম রব্বানি বা কানাইয়ালাল আগরওয়ালের মতো বিধায়কেরা পিএসি-র চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। কালীঘাটপন্থী শিবিরের তরফে ওই কমিটির সদস্য হচ্ছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক অশোক দেব। পিএসি-র গঠন এখনও পর্যন্ত নির্বিঘ্ন হলেও বিধানসভার অন্যান্য কমিটি ঘিরে অবশ্য জটিলতা রয়েছে। সূত্রের খবর, শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে কী ভাবে কমিটি বণ্টন হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসসেক মত নেওয়া হচ্ছে শাসক বিজেপির তরফে। এরই মধ্যে আজ, শনিবার অধিবেশনের শেষ দিনে বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
স্পিকারকে ‘অসম্মান’ এবং বিধানসভায় ‘নিন্দাজনক’ আচরণের জন্য কালীঘাটপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে শুক্রবারই স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব এনেছেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোয। কুণাল অবশ্য জানিয়েছেন, স্পিকারকে অসম্মানের উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। বিরোধী দলের সচেতক তাঁর নাম বক্তা-তালিকা থেকে কেটে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করে স্পিকারকে চিঠি দিয়ে বিতর্কে অংশ নিতে দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন তিনি।