স্কুলে পাশ-ফেল প্রথা চালু হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সিলেবাস কমিটির কর্তারাও জানাচ্ছেন, স্কুলে পাশ-ফেল চালু করা হলেও তা সব ক্লাসের জন্য প্রযোজ্য হবে না। জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শুধু পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির জন্যই তা হবে। তার জন্য সমীক্ষাও প্রয়োজন। ওই কর্তাদের দাবি, পাশ-ফেল ফের চালু হলেও তা ২০২৮-২৯ শিক্ষাবর্ষের আগে হবে না। তবে শিক্ষকদের একাংশের প্রশ্ন, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত না করে শুধু পাশ-ফেল প্রথা চালু করলে তা কতটা কার্যকরী হবে? তাঁদের বক্তব্য, কোনও স্কুলে শিক্ষকের আকাল, কোনও স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা কার্যত তলানিতে এসে ঠেকেছে। এই পরিস্থিতির উন্নতি না-হলে শুধু পাশ-ফেল চালু করে পড়ুয়া ও শিক্ষা ব্যবস্থার কোনও উন্নতি হবে না।
এখনই যে পাশ-ফেল চালু হচ্ছে না, সে কথা কার্যত স্পষ্ট হয়েছে রাজ্য সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘‘পাশ-ফেল নিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতিতে যা বলা হয়েছে, শুধু সেটুকুই কার্যকর হতে পারে। তবে তার আগে অভিভাবক, শিক্ষক সংগঠন, প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে। তাঁদের মতামত নিতে হবে। বিভিন্ন আইনি দিক পর্যালোচনা করতে হবে। তার পর বিবেচনা করা হবে।’’
রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক এবং পড়ুয়ার অনুপাতে অসামঞ্জস্য আছে। গ্রামীণ এলাকার স্কুলে পড়ুয়া থাকলেও পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। শহরাঞ্চলে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকলেও পড়ুয়া নেই। গোটা রাজ্যে চার হাজারের বেশি স্কুল পড়ুয়াশূন্য! শিক্ষক সংগঠনগুলির সূত্র জানাচ্ছে, গ্রামীণ এলাকা থেকে উৎসশ্রী পোর্টাল মারফত শিক্ষকেরা শহরাঞ্চলে চলে এসেছেন। বহু দিন নিয়োগও বন্ধ। এ দিকে, ‘সরকারি স্কুলে পরিকাঠামোর অভাব’— এই অভিযোগে বহু অভিভাবক সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করছেন। তার ফলে শহরাঞ্চলে সরকারি স্কুল পড়ুয়ার অভাবে ভুগছে।
অল ইন্ডিয়া সেভ এডুকেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তরুণ নস্কর বলেন, ‘‘আমরা বহু দিন ধরেই পাশ-ফেল চালু করার দাবি করেছি। তবে পরিকাঠামোর উন্নতি না-করে পাশ-ফেল চালু করলে পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, শিক্ষক নিয়োগ মাঝপথে থমকে আছে। চাকরিহারা শিক্ষকেরাও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানের পড়ুয়াকে পাশ করানোর মতো পরিবেশ স্কুলে আছে কি? কোনও দুর্বল পড়ুয়াকে অতিরিক্ত ক্লাস করানোর পরিকাঠামো স্কুলে আছে? যদিও রাজ্য সিলেবাস কমিটির কর্তাদের মতে, পঞ্চম শ্রেণিতে পাশ-ফেল চালু হতে পারে একজন পড়ুয়া ভাষা এবং অঙ্কে কতটা পারদর্শী তা দেখার জন্য। অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল চালু হতে পারে পড়ুয়ার নিজস্ব চিন্তাভাবনা কতটা তৈরি হয়েছে, কতটা বিশ্লেষণ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে তা দেখার জন্য। কোনও পড়ুয়ার খামতি থাকলে তাকে অতিরিক্ত ক্লাস (রেমিডিয়াল ক্লাস) করিয়ে ফের পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।