E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পুজো কমিটির ‘বাম-বধ’, হিটলার-স্মরণে পাল্টা ব্যানার

পুজোর ব্যানার-পোস্টার নিয়ে নানা পুজো-কমিটির যুদ্ধ রাজ্যে অতীতেও দেখা গিয়েছে। যেমন, ২০১৫-য় হোর্ডিংয়ের লড়াই দেখা গিয়েছিল নাকতলা উদয়ন ও দেশপ্রিয় পার্কের পুজো-প্রচারে। কিন্তু পুজোর ব্যানারকে সামনে রেখে এমন রাজনৈতিক তরজার কথা মনে করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কোনও শিবিরই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৪৮
সিপিএমের রাজ্য দফতরের কাছে এ জে সি বোস রোডে ব্যানার-যুদ্ধ পুজো ঘিরে।

সিপিএমের রাজ্য দফতরের কাছে এ জে সি বোস রোডে ব্যানার-যুদ্ধ পুজো ঘিরে। — নিজস্ব চিত্র।

পুজোর মরসুমে এ বার ব্যানার-যুদ্ধ, আর তা-ও রাজনৈতিক! দুর্গাপুজো না-লিখলে পুজো-মণ্ডপের বাইরে বামেদের বইয়ের স্টল না-দেওয়ার কথা বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই আবহে এ বার পূর্ব কলকাতার একটি পুজো কমিটি সিপিএমের রাজ্য দফতর, মুজফ্‌ফর আহমেদ ভবনের কাছে, এ জে সি বোস রোডে ‘বাম বধ’ স্লোগান দেওয়া ব্যানার লাগিয়েছে। কিছু ক্ষণের মধ্যেই, সেটির ঠিক পাশে হিটলারের ছবি দেওয়া ব্যানার দিয়ে বলা হল, ‘বাম বধ ও বলেছিল। বাকিটা ইতিহাস।’ পাল্টা ব্যানার কারা দিয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানা না-গেলেও, সেই সংক্রান্ত ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-সহ দলের নানা স্তরের নেতারা।

পটারি রোডে 'কামারডাঙা সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতি'র ১০৭ বছরের পুজো উপলক্ষে সিপিএমের দফতরের সামনে যে ব্যানারটি রাখা হয়েছে, তাতে লেখা, ‘এ বার পুজোয় বাম-বধ। সিপিএম, ডিওয়াইএফআই, এসইউসি-সহ সব বাম সংগঠনের দ্বারা নির্মিত স্টল বসতে দেওয়া হবে না।’ ব্যানারে সুরজ সিংহ নামে এক ব্যক্তির ছবিও রয়েছে। সুরজ সংবাদমাধ্যমের একাংশকে বলেছেন, “বিভিন্ন সময়ে আমরা দেখেছি বামপন্থীরা কতটা হিন্দু বিরোধী, বার বার হিন্দু ধর্মকে আঘাত করে। তাই এখানে কোনও বামপন্থীদের স্টল করতে দেওয়া হবে না। এ বার থেকে আমাদের স্লোগান বা থিম-লাইন, বাম-বধ!”

পুজোর ব্যানার-পোস্টার নিয়ে নানা পুজো-কমিটির যুদ্ধ রাজ্যে অতীতেও দেখা গিয়েছে। যেমন, ২০১৫-য় হোর্ডিংয়ের লড়াই দেখা গিয়েছিল নাকতলা উদয়ন ও দেশপ্রিয় পার্কের পুজো-প্রচারে। কিন্তু পুজোর ব্যানারকে সামনে রেখে এমন রাজনৈতিক তরজার কথা মনে করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কোনও শিবিরই।

পুজো কমিটির ওই ব্যানারের পরেই দেখা যায়, তার পাশে হিটলারের ছবি দেওয়া পাল্টা ব্যানার। এই প্রেক্ষিতে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী বলেছেন, “ইতিহাসে অনেকই এসেছিলেন কমিউনিস্টদের বধ করতে। তার পরে তাঁরা নিজেরাই বধ হয়ে গিয়েছেন।” দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আর এক সদস্য সুজন চক্রবর্তীও বলেছেন, “বিজেপি-আরএসএস বই, মুক্তচিন্তার গুরুত্ব কখনই বুঝবে না। তাই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই রাজ্যের সর্বত্র প্রতি বছরের মতো এই বারেও দল পূর্ণ শক্তিতে বইয়ের স্টল দেবে।”

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
banner CPIM BJP

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy