E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

পুনর্বিন্যাসে প্রশ্ন বিস্তর, সংরক্ষণে মানা হল আপত্তি

বিধানসভায় আইন সংশোধন করে কলকাতা পুর-নিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কমিশন (এসইসি) সকলের মতামত নেবে বলে বিধানসভায় মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

সন্দীপন চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৫৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

আগামী নভেম্বরের শেষে পুরভোট করানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন (এসইসি)। কিন্তু তার আগে কলকাতায় ওয়ার্ডের পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি সংরক্ষণের পদ্ধতি ঘিরেও বিতর্ক আরও পাকিয়ে উঠছে। শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থে এবং আইনে প্রদত্ত ক্ষমতাকে ‘ভুল উদ্দেশ্যে’ কাজে লাগানো হচ্ছে বলে লিখিত আপত্তি তুলেছেন সিপিএম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব। কলকাতার ওয়ার্ড সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বিরোধীদের তোলা কিছু আপত্তি অবশ্য মেনে নিয়েছে এসইসি।

বিধানসভায় আইন সংশোধন করে কলকাতা পুর-নিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণ কার্যকর করার ক্ষেত্রে কমিশন (এসইসি) সকলের মতামত নেবে বলে বিধানসভায় মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীদের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা আইনের ৬০১ ধারার অধীনে দ্বিতীয় তফসিলকে (পুনর্বিন্যাস ও সংরক্ষণের তালিকা সংক্রান্ত) ‘ভুল উদ্দেশ্যে’ ব্যবহার করা হচ্ছে।

রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবশ্য বলছেন, ‘‘আমরা প্রাথমিক ভাবে একটা খসড়া করে পাঠিয়েছি। এ বার এসইসি-র দায়িত্ব সেটা খতিয়ে দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া। এই বিষয়ে অনুমোদন দিতে পারে একমাত্র এসইসি।’’ খসড়া তালিকার পরে বুধবার রাতে সংরক্ষণের পরবর্তী তালিকার বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কমিশন তথা এসইসি। সেখানে খসড়া তালিকায় থাকা মহিলা ও তফসিলি সংরক্ষিত কিছু ওয়ার্ডের বদলে নতুন ওয়ার্ড সংরক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তের ব্যাখ্যা, এসইসি-র নির্ধারিত প্রতিনিধি হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা ডিএমইও খসড়া তালিকার উপরে আপত্তি ও প্রস্তাব থেকে বিবেচনা করে কমিশনকে রিপোর্ট দেন। তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়।

কলকাতার ২০৯টি ওয়ার্ডের সীমানা পুনর্বিন্যাসের তালিকা প্রথমে এসেছিল। তার পরে বেরিয়েছে সংরক্ষণের তালিকা। এ বার ৭০টি ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য এবং ১২টি তফসিলি জাতির জন্য (তার মধ্যে চারটি মহিলা) সংরক্ষণ করা হয়েছে। সিপিএমের কলকাতা জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার কলকাতার পুর-কমিশনার এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসককে চিঠি দিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন, কীসের ভিত্তিতে তফসিলি সংরক্ষণের জন্য ওই ১২টি ওয়ার্ড বেছে নেওয়া হল? কারণ, অন্যান্য ওয়ার্ডে আরও বেশি সংখ্যক তফসিলি জাতভুক্ত মানুষ আছেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। চিঠিতে তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন আইন, ১৯৯৪ এবং পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন (আসন সংরক্ষণ) বিধি, ১৯৯৪-এ থাকা নীতিকে অগ্রাহ্য করে ‘ইচ্ছামতো’ ওয়ার্ড সংরক্ষণ করা যায় না। চূড়ান্ত তালিকায় অবশ্য সংরক্ষিত ওয়ার্ডে কিছু রদবদল করা হয়েছে।

একই ভাবে প্রশ্ন উঠেছিল মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও। উত্তর কলকাতায় ৮, ১১, ১৭ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড খসড়া তালিকায় মহিলা সংরক্ষণের তালিকায় ছিল। ওই ওয়ার্ডগুলি আগে ৬, ৩, ৯ ও ১৮ হিসেবে আগে মহিলা সংরক্ষিতই ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে প্রশান্ত দত্ত, আশুতোষ চট্টোপাধ্যায়, সুমন রায়চৌধুরী, অজিতেশ পাণ্ডেরা পশ্চিমবঙ্গ পুর নির্বাচন (আসন সংরক্ষণ) বিধি, ১৯৯৪ স্মরণ করিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, পর্যায়ক্রমে বদল করে বিভিন্ন কেন্দ্রে সংরক্ষণ যে ভাবে কার্যকর হওয়ার কথা, সেই প্রক্রিয়া কি মানা হয়েছে? চূড়ান্ত তালিকায় ওই আপত্তি মেনে চারটি ওয়ার্ডকেই মহিলা সংরক্ষণের বাইরে আনা হয়েছে।

তবে পুনর্বিন্যাসের তালিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন অব্যাহত। নতুন ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ হাজার ৬৫৫ জন, ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে ৬ হাজার ১১৯ জন, ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৭৬ জন, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৭ হাজার ৪৯০ জন ভোটার রয়েছেন। অন্য দিকে, প্রস্তাবিত ১২১ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩ হাজার ৫৯ জন, ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪ হাজার ৪৮ জন এবং ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৮ হাজার ৬৯৫ জন ভোটার রয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং শাসক বিজেপির নেতৃত্ব যেখানে বলছেন ভাল পরিষেবার স্বার্থে ওয়ার্ডের আয়তন কমানো হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে এমন ‘অসঙ্গতি’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক কল্লোল চিঠি লিখেই অভিযোগ জানিয়েছেন, ষেখানে বিজেপি আগে ভাল ভোট পেয়েছে, সেখানে তুলনায় কমসংখ্যক ভোটার রেখে ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে। আর যেখানে উল্টোটা হয়েছে, সেখানে বেশি সংখ্যক নির্বাচক দিয়ে ওয়ার্ড সাজানো হয়েছে। অর্থাৎ বিজেপি তার ‘সুবিধাজনক’ এলাকা থেকে বেশি পুর-প্রতিনিধি পেতে পারবে, অন্য দল সেটা পারবে না!

কল্লোলের মতে, ‘‘যে কায়দায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট যুক্তিগ্রাহ্য পদ্ধতিতে তার অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা দরকার। আগে সর্বদল বৈঠকে প্রশ্ন তোলার পরেও কোনও সুরাহা হয়নি।’’ প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আশুতোষের দাবি, ‘‘এত তাড়াহুড়ো করে সংরক্ষণের খসড়া তালিকা করার দরকার ছিল না। নতুন তালিকাতেও কিছু প্রশ্নের জায়গা আছে। আর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে একেবারেই শাসক দলকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য!’’

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
KMC Municipality

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy