দেড় দশক আগে গঙ্গা থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিল পাঁচ কিলোমিটার। রবিবার ভোরে সেই স্কুলবাড়ির একাংশ ভাঙনে তলিয়ে গেল গঙ্গায়। মালদহের রতুয়ার পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনা কার্যত লাটে উঠেছে। সপ্তাহখানেক ধরে নদী স্কুলের কাছাকাছি পৌঁছে গেলেও, ভবন রক্ষায় সেচ দফতর, প্রশাসন তৎপর হয়নি বলে অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষথেকে গ্রামবাসীর।
সেচ দফতরের যদিও দাবি, ভাঙন রোধে অস্থায়ী ভাবে বাঁশ ফেলে কাজ করা হচ্ছে। কোথাও বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। এ দিন গঙ্গার জলস্তর বিপদসীমা ছাপিয়ে চরম বিপদসীমার কাছে রয়েছে। ফুলহার এবং মহানন্দার জলস্তর চরম বিপদসীমা থেকে নীচে রয়েছে। তবে গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় রতুয়া, মানিকচক, কালিয়াচক, ইংরেজবাজার এবং বৈষ্ণবনগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে।
রতুয়া চক্রের পশ্চিম রতনপুর প্রাথমিক স্কুল সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৬ সালে গড়ে ওঠা স্কুলটিতে প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৩২০ জন ছাত্রছাত্রী, ছ’জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তিনটি গ্রামের ছাত্রছাত্রীরা এখানে পড়াশোনা করে। ভাঙনে দোতলা স্কুলবাড়ির একাংশ তলিয়ে যাওয়ায়, প্রায় ৫০০ মিটার দূরে খাসমল জুনিয়র হাই স্কুলে পড়াশোনা চালু রাখতে উদ্যোগী হয়েছে জেলা শিক্ষা দফতর। তবে সে স্কুলেও এখন জলজমে রয়েছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাপি সরকারের অভিযোগ, “ভাঙনে মন্দির, মসজিদ রক্ষা করার জন্য সরকার তৎপরতা দেখাচ্ছে। অথচ, শিক্ষাঙ্গন তলিয়ে গেলেও তা বাঁচানোয় তৎপরতা দেখা গেল না।” এক অভিভাবক সুবল চৌধুরী বলেন, “বাঁশ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা হচ্ছে। এখানে সরকারের টাকা নয়ছয় ছাড়া কিছুই হচ্ছে না।” বাম শ্রমিক সংগঠন সিটুর জেলা সম্পাদক দেবজ্যোতি সিংহ বলেন, “ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলেও ভাঙন থেকে স্কুলকে রক্ষা করা গেল না!” রাজ্য সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী জয়েল মুর্মু বলেন, “ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানে বড় পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”