Advertisement
E-Paper

উদ্বেগ পাহাড়ে, বন্ধ রোপওয়েও

তিন দিন ধরে একের পর কম্পন আর আতঙ্ক। সাধারণ বাসিন্দা তো বটেই দার্জিলিং পাহাড়ে থাকা পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ের ট্যুর অপারেটরেরা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার ভূমিকম্পের তীব্রতা পাহাড়ে ভালই বোঝা যায়। তবে বুকিং বাতিলের তেমন খবর মেলেনি। অবশ্য যে পর্যটকেরা পাহাড়ে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই পাহাড় ছাড়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন।

কৌশিক চৌধুরী ও রেজা প্রধান

শেষ আপডেট: ২৮ এপ্রিল ২০১৫ ০৩:৩৬
ভূকম্পের আতঙ্ক। শিলিগুড়িতে উড়ালপুলে জনতার ভিড়।—নিজস্ব চিত্র।

ভূকম্পের আতঙ্ক। শিলিগুড়িতে উড়ালপুলে জনতার ভিড়।—নিজস্ব চিত্র।

তিন দিন ধরে একের পর কম্পন আর আতঙ্ক। সাধারণ বাসিন্দা তো বটেই দার্জিলিং পাহাড়ে থাকা পর্যটকদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ের ট্যুর অপারেটরেরা জানিয়েছেন, সোমবার সন্ধ্যার ভূমিকম্পের তীব্রতা পাহাড়ে ভালই বোঝা যায়। তবে বুকিং বাতিলের তেমন খবর মেলেনি। অবশ্য যে পর্যটকেরা পাহাড়ে রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই পাহাড় ছাড়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। অনেকেই বিমান, ট্রেনের নির্ধারিত টিকিট বাতিল করে নতুন করে দ্রুত টিকিট কাটা যায় কি না, সেই খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন। এদিনই, দার্জিলিঙের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ রোপওয়ে আগামী তিন দিনের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত রবিবার রাত ১১টা নাগাদ ভূমিকম্পের আতঙ্কে বহু পর্যটককে ম্যাল চৌরাস্তায় বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। বাসিন্দারা জানান, শৈলশহরে কয়েকটি স্কুল ছাড়া এত খোলা এলাকা নেই। আর স্কুলগুলি বন্ধ থাকায় চৌরাস্তাকেই নিরাপদ হিসাবে বেছে নেন পর্যটক এবং বাসিন্দারা। একই ছবি সমতলের শিলিগুড়িতেও দেখা গিয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার পর একই ছবি দেখা গিয়েছে। কলকাতার এক পর্যটক দেবাশিস রায় বলেন, ‘‘আতঙ্কেই রাত কেটেছে। স্ত্রীকে নিয়ে বেশিরভাগ সময় বাইরেই ছিলাম। পরে হোটেলের খোলা অংশে অনেকক্ষণ সময় কাটাই। আবার এদিন কম্পন হয়। এখন ভাবছি ফিরে যাব।’’

ইস্টার্ন হিমলয়া ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি সম্রাট সান্যাল জানান, দার্জিলিঙে কম্পন অনুভূত হলেও কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। এদিনও বাসিন্দাদের সঙ্গে পর্যটকেরা সন্ধ্যায় হোটেল, লজ বা রিসর্টের বাইরে চলে এসেছিলেন। তবে পর্যটকদের মধ্যে একটা আতঙ্ক রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘তবে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য আমরা বলছি। গুজব থেকেই বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।’’

সোমবার সন্ধ্যায় আবার কেঁপে উঠল শিলিগুড়ির মাটি। অনেক বহুতলের বাসিন্দারাও

ফের বাড়ি ছেড়ে নেমে আসেন ফাঁকা মাঠে। সেখানেই বসে থাকেন তাঁরা।

অনেকে মশারিরও ব্যবস্থা করেন। ছবিটি তুলেছেন বিশ্বরূপ বসাক।

ম্যাল চৌরাস্তা, টয়ট্রেন, এইচএমআই, চিড়িয়াখানা, টাইগার হিলের মতো দার্জিলিঙের রোপওয়ে পর্যটকদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। সিংমারি থেকে টাকভর অবধি ২০ মিনিটের রোপওয়ে চড়ার জন্য ভিড় লেগেই থাকে। রাজ্য বন উন্নয়ন নিগমের নিয়ন্ত্রণে রোপওয়েটি রয়েছে। নিগমের দার্জিলিং ডিভিশনের রোপওয়ে ম্যানেজার উরগেন তামাঙ্গ জানান, রোপওয়ের কোনও ক্ষতি হয়নি। তবে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসাবে আগামী তিন দিন তা বন্ধ রাখা হবে বলে ঠিক হয়েছে। কলকাতা থেকে ইঞ্জিনিয়ারেরা আসছেন, তাঁরা একবার সমস্ত কিছু পরীক্ষা করবেন। তার পরে রোপওয়ে ফের চালু করা হবে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে একটি দুর্ঘটনায় চার পর্যটকের মৃত্যুর পর নয় বছর পরে দার্জিলিঙের রোপওয়েটি চালু হয়।

কম্পন আতঙ্কে মাঠে। শিলিগুড়িতে।

দার্জিলিং অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস-এর এর সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ লামা জানান, এখনও কোনও বুকিং বাতিল হয়নি। তবে বহু লোকজন ফোন করে পাহাড়ে আসাটা কতটা নিরাপদ, সেই খোঁজ নিচ্ছেন। আবার অনেকে দার্জিলিং এবং নেপালে এক সঙ্গে ঘোরার পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। সেই ঘোরার সূচি বদল তাঁরা বদল করছেন। পাহাড়ের আরেক ট্যুর অপারেটর সুরেশ পেরিয়াল জানান, এপ্রিলের মাঝ থেকে গরমের পর্যটন মরসুম শুরু হয়। নেপালের পর্যটন তো পুরোপুরি কিছু দিনের জন্য মার খেল ঠিকই। তবে আশাবাদী, বহু পর্যটক নেপালের বদলে দার্জিলিঙেই আসবেন। এখন পাহাড়ের বেশিরভাগ হোটেলের ঘর প্রায় ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে।

reja pradhan Ropeway service earthquake panic kaushik chowdhury siliguri Nepal

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy