মাথা ফুঁড়ে গিয়েছিল একটাই গুলি। মঙ্গলবার বিকেলে তাতেই মৃত্যু হয় মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জের বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডলকে খুনে মূল অভিযুক্ত মহম্মদ সামাউল হকের। বুধবার সামাউলের দেহ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের মর্গে আনা হয় ময়না তদন্তের জন্য। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞেরা সামাউলের হাতের ছাপ সংগ্রহ করেন। সন্ধ্যার পরে মৃতদেহ বাড়ির লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সামাউলের বাবা শাজাহান শেখ কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন নাবলে জানিয়েছেন।
সিআইডি-র মুর্শিদাবাদের ইনস্পেক্টর অক্ষয় পাল মঙ্গলবার রাতে শমসেরগঞ্জ থানায় লিখিত ভাবে ঘটনা জানিয়ে এফআইআর করেছেন। অক্ষয় সুজিত-হত্যায় গড়া বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) সদস্য। ২৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ তিনি, ডিএসপি দেবাশিস চক্রবর্তী এবং সিআইডি-র ইনস্পেক্টর খালেকুজ্জামান ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলটি ছিল সুজিত খুনের মামলায় অপর অভিযুক্ত তাজকিরা বিবির ভাড়া নেওয়া দোতলা বাড়ি। সামাউলকে নিয়ে ডিএসপি এবং ইনস্পেক্টর ঘরে ঢোকেন। অক্ষয় ছিলেন ঘরের দরজার সামনে।
এফআইআর অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ২টো ৫০ মিনিট নাগাদ সামাউল আচমকা ডিএসপি-র মাথার পিছনে আঘাত করে এবং তাঁকে ঘুঁষি মারে। ডিএসপি-র কোমরে রাখা সার্ভিস রিভলভারটি ছিনিয়ে নিয়ে তাঁর দিকে পর পর দু’টি গুলি চালায়। দু’টিই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। গুলি থেকে বাঁচতে ডিএসপি মেঝেতে বসে পড়েন। দাবি, অক্ষয় এবং খালেকুজ্জামান চিৎকার করে সামাউলকে থামতে বলেন। কিন্তু অভিযোগ, সামাউল খালেকুজ্জামানকেও গুলি করতে উদ্যত হয়। তখন খালেকুজ্জামান সার্ভিস রিভলভার থেকে আত্মরক্ষার্থে এবং সকলের জীবন বাঁচাতে একটি গুলি চালান। গুলিটি সামাউলের মাথায় লাগলে সে পড়ে যায়। ফোনে শমসেরগঞ্জ থানার আইসি-কে ঘটনা জানানো হয়। অ্যাম্বুল্যান্সে সামাউলকে অনুপনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রের খবর, সামাউলের মাথার ডান দিকে লেগে গুলিটি এফোঁড়-ওফোঁড় করে বাঁ দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। তাতেই সামাউলের মৃত্যু হয়।
এ দিন দাদার দেহ নিতে জঙ্গিপুরে এসেছিলেন সামাউলের ভাই আমাউল হক। তিনি বলেন, “শমসেরগঞ্জ থানা থেকে খবর দেওয়া হয়েছিল। আমরা এসেছি দেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য।” সামাউলের বাবা শাজাহান শেখ ফোনে বলেন, “পুলিশ কেন তাকে গুলি করে মারল, সেটা পুলিশইবলতে পারবে।” তবে এটাই ‘ন্যায় বিচার’ বলে মনে করেন বিজেপি কর্মী সুজিতের স্ত্রী সুমনা মণ্ডল। তাঁর দাবি, ‘‘ঘটনায় পুলিশের হাতে ধরা পড়া আরও দু’জন এখনও জীবিত। তাদেরকেও এ ভাবেই মারতে হবে।”
সুজিতের প্রতিবেশী সুকুমার সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছিলেন সুজিতের বিধবা স্ত্রীকে চাকরি এবং ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দেবেন। সে সাহায্য এখনও পায়নি সুজিতের পরিবার। আমরা চাই, অবিলম্বে ওর পরিবারের পাশে দাঁড়াকরাজ্য সরকার।’’