সংসদে বিল পাশ করাতে বিদ্রোহী তৃণমূলদের হাত ধরায় রাজ্যে দলীয় সমর্থকেরা যে ক্ষুব্ধ, সে খবর পৌঁছেছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। তাই রাজ্যের ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি, সমর্থকদের ক্ষোভের বিষয়টি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা জে পি নড্ডা। সব ঠিক থাকলে আগামিকাল ওই বৈঠক হওয়ারকথা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে বিজেপিতে যোগদানের লাইন পড়ে গিয়েছে তৃণমূলের নেতাদের। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব যতই বলুন না কেন, কোনও তৃণমূল নেতাকে সরাসরি দলে নেওয়া হচ্ছে না, কিন্তু বাস্তবে অন্য চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রেফতারি এড়াতে বা জনরোষ থেকে বাঁচতে অনেক তৃণমূল নেতার দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে গা ঘেঁষাঘেঁষি মোটেই ভাল ভাবে নিচ্ছেন না নিচুতলার কর্মীরা এবং সাধারণ বিজেপি সমর্থকেরা। বিজেপির এক শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘‘এ নিয়ে আম বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁরা যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের কাউকে সরাসরি দলে নেওয়া হচ্ছে না (ব্যতিক্রম তিন রাজ্যসভা সাংসদ)। যাঁরা যোগ দিচ্ছেন তাঁরা এনডিএ-র শরিক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন। কেউ যদি এনডিএ-র ভাবধারাকে বেছে নিয়ে শরিক হিসেবে যোগ দিতে চান, তা হলে অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু দলে সরাসরি কাউকে নেওয়া হবে না।’’ পদ্মশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা যাই বলুন না কেন, তৃণমূল নিেয় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের একটা বড় অংশের আপত্তি গোপন থাকছে না।
রাজ্যে বিপুল জয় সত্ত্বেও বঙ্গের বিজেপি সমর্থকেরা যে অখুশি সেই খবর পৌঁছেছে সদ্য প্রাক্তন সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি জে পি নড্ডার কাছে। বিষয়টি নিয়ে শমীকের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে আগামিকাল সেই বৈঠক হওয়ার কথা। সূত্রের মতে, ঘরোয়া মহলে শমীক একাধিকবার বলেছেন, তিনি কর্মীদের অসন্তোষের বিষয়ে অবহিত। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন। কেননা যে ভাবে তৃণমূলের লোকেদের কাছে টানা হচ্ছে, তাতে তাঁকেও হয়তো ভবিষ্যতে বিজেপি কর্মীদের রোষের শিকার হতে হবে। ইতিমধ্যেই শমীককে কেন্দ্র করে সমাজমাধ্যমে বিভিন্ন মিম বেড়িয়েছে। যাতে তাঁকে ‘মধ্যস্থতাকারী’ চিহ্নিত করে আক্রমণ শানিয়েছেনদলীয় কর্মীরা।
সূত্রের মতে, কালকের বৈঠকে তৃণমূলীদের দলে নেওয়া নিয়ে সমর্থকদের উদ্বেগ, হতাশা, কী ভাবে তাঁকে সমাজমাধ্যমে আক্রমণ শানানো চলেছে তা নড্ডার কাছে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরতে পারেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি।