জনগণনা প্রক্রিয়ায় এই বারই প্রথম চালু হয়েছিল ‘স্ব-গণনা’ (সেলফ এনুমারেশন)। যেখানে মানুষ নিজেই নিজের তথ্য অনলাইনে জমা করতে পারতেন। কিছু ‘প্রযুক্তিগত ত্রুটি’ থাকলেও, ১৫ অগস্ট পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াকে সফল হিসেবেই দাবি করছেন সেন্সাস কর্তৃপক্ষ। তবে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বহু মানুষ ‘স্ব-গণনা’ করতেও পারেননি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে এ রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেন্সাস ডিরেক্টর নিখিল পবন কল্যাণ জানান, যাঁরা তা করতে পারেননি, তাঁদের চিন্তার কারণ নেই। মূল পর্বের গণনায় এনুমারেটরেরা প্রতিটি বাড়িতেই গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এক জনও বাদ যাবেন না।
নিখিল বলেন, “চিন্তার কোনও কারণ নেই। স্ব-গণনা অতিরিক্ত একটি পদ্ধতি ছিল। তাতে বহু মানুষই নিজেদের নথিবদ্ধ করতে পেরেছেন। যাঁরা তা করেছেন এবং যাঁরা তা করতে পারেননি, সকলের বাড়িতেই যাবেন এনুমারেটরেরা।” সেন্সাস কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট প্রায় ৫৩ লক্ষ পরিবার ‘স্ব-গণনা’ করেছিল, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাদের মধ্যে সফল হয়েছে প্রায় ৪৯ লক্ষ পরিবার।
প্রসঙ্গত, ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত স্ব-গণনা প্রক্রিয়া চালু ছিল। দ্বিতীয় ধাপে ১৬ অগস্ট থেকে শুরু হয়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহ-তালিকা (হাউস লিস্টিং) তৈরির কাজ। তার পরের ধাপে হবে জনগণনা। দ্বিতীয় দফার কাজে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেটরেরা ৩৩টি প্রশ্ন করবেন। যাঁরা স্ব-গণনা করেছিলেন, তাঁদের প্রশ্ন করা হবে না। তাঁদের ‘এনরোলমেন্ট’ নম্বর সংগ্রহ করে তা মিলিয়ে নেওয়া হবে। সেন্সাস-বিধি অনুযায়ী, একটি রান্নাঘর থেকে যে ক’জনের রান্না হয়, সেই সংখ্যাকেই একটি পরিবার হিসেবে ধরা হবে। একটি বসতবাড়ির গণনা একটিই হবে ঠিকই, কিন্তু সেখানে দু’টি বা তার বেশি পৃথক রান্নাঘর সক্রিয় থাকলে পরিবারের সংখ্যা ধরা হবে সমসংখ্যক। আবার কোনও আবাসনে অনেকগুলি টাওয়ার থাকলে, সেখানে থাকা ফ্ল্যাটগুলি এক-একটি পরিবার হিসেবে গণ্য হবে।
কিন্তু এনুমারেটরেরা যখন বাড়ি বাড়ি যাবেন, তখন সেখানে লোক না থাকলে কী হবে? উত্তরে নিখিল জানান, তেমন ক্ষেত্রে একাধিক বার সেই বাড়িতে যাবেন এনুমারেটর। পাশাপাশি, নিজের ফোন নম্বর সেই বাড়িতে লিখে দেবেন তিনি। এর সঙ্গে, ১৮৫৫ টোল-ফ্রি নম্বরে (সোম থেকে শনিবার। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত) ফোন করেও যে কোনও মানুষ এনুমারেটরের তথ্য পেতে পারবেন।
ইতিমধ্যেই এনুমারেটর নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। বহু সংখ্যায় শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এ কাজে নিয়োগ করায় স্কুলের কাজ ধাক্কা খাবে কি না, তা নিয়েও কথা উঠছে। কৌতূহল রয়েছে ‘অন-ডিউটি’ হওয়া নিয়েও। সেন্সাস কর্তৃপক্ষ ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘অন-ডিউটি’ বিষয়টি জেলা প্রশাসনের উপর নির্ভরশীল। তবে এই কাজে বেশি সময় লাগছে না এক-এক জনের। স্কুলের সময়ে এ কাজ না করলেও চলে। ফলে যাঁদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা বহাল থাকবে।