শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের খুনে জড়িত আরও দু’জনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃতেরা সম্পর্কে দুই ভাই।
সিবিআই সূত্রে খবর, শুক্রবার অভিযুক্তদের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে চন্দ্রনাথ খুনে যাঁরা গ্রেফতার হয়েছেন, তাঁরা হয় শুটার, নয়তো মিডলম্যান। তবে এই দুই অভিযুক্ত মূল চক্রী হতে পারেন বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর।
যাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের নাম সাগর সোনকর এবং সাহেব সোনকর। দুই সহোদর বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলেই খবর। তা ছাড়া চন্দ্রনাথেরও পূর্বপরিচিত। সিবিআইয়ের এক কর্তা জানিয়েছেন, শুটার আনা থেকে ‘রসদ’ সরবরাহ, রেকি করতে সাহায্য, চন্দ্রনাথ খুনের যাবতীয় পরিকল্পনাতে এঁরা ছিলেন। তবে কী কারণে চন্দ্রনাথের উপর তাঁদের রোষ, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।
ধৃতদের সম্পর্কে এ পর্যন্ত যে যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, সেখান থেকে সিবিআইয়ের দাবি, ২০২৫ সাল থেকে চন্দ্রনাথকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে থেকেই তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে সরানোর ষড়যন্ত্র চলছিল। সাগর এবং সাহেব, দু’জনেই ২০২০ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। তার আগে তাঁরা অন্য একটি রাজনৈতিক দলের এক বিধায়কের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে খবর।
সিবিআই তদন্তে উঠে এসেছে, সাগর ল্যান্ডলাইনে নিয়মিত কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তদন্তকারীদের ইঙ্গিত, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের কারও সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল। গোটা ‘অপারেশন’-এর টাকা থেকে ভাড়াটে খুনি জোগাড় এবং বরাত, সবটাই সাগর এবং তাঁর ভাই করেছেন। যদিও কোন বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোন বিধায়ক বা নেতার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল, তা নিয়ে তথ্য মেলেনি।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই খুন হন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক। গত ৪ মে ভোটের ফলাফল ঘোষণা হয়। প্রথম বার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখল করে বিজেপি। সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শুভেন্দুর নাম নিয়ে যখন নানা মহলে আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই খুন হন তাঁর আপ্তসহায়ক।
আরও পড়ুন:
৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ। গাড়িতে তিনি বসেছিলেন চালকের পাশের আসনে। সেই সময় বাইকে করে গিয়ে আততায়ীরা তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। খুনের ঘটনায় মনু সিংহ, রাজ সিংহ, গোলু সিংহ, ময়াঙ্করাজ মিশ্র, ভিকি মৌর্য এবং নবীনকুমার সিংহ গ্রেফতার হন। তাঁরা ‘শার্প শুটার’ বলে জানা যায়। এ ছাড়াও বিনয় রায়, সঞ্জয় রায় এবং বিকাশ মিশ্র পাকড়াও হয়েছেন। সব ঠিক থাকলে অগস্ট মাসেই চন্দ্রনাথের হত্যা মামলায় আদালতে চার্জশিট দিতে পারে সিবিআই।
অন্য দিকে, শুভেন্দুর মতো বিজেপির বড় মাপের নেতার আপ্তসহায়ক খুনে ওই দলের সঙ্গে সম্পর্কযুক্তদের গ্রেফতারিতে অন্তর্ঘাত তত্ত্বও উঠে আসছে। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘‘এদের আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। কিন্তু চন্দ্রনাথকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনতাম। আমি একটা ভাইকে হারিয়েছি। আইন আইনের পথে চলবে। যে দু’জনের কথা বলা হচ্ছে, তাদের আমি ব্যক্তিগত ভাবে চিনি না। কোনও রকম ‘পলিটিক্যাল ইমিউনিটি’ কেউ পাবে না।’’