নদিয়ার আড়ংঘাটায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিমল দাস (৩৯) খুনের ঘটনায় দু’জনকে ধরল পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রানাঘাটের মাটিকুমড়া এলাকা থেকে অলোক সুতার ও রাজু শিকদার নামে ওই দু’জনকে ধরা হয়। শুক্রবার রানাঘাট আদালত তাঁদের সাত দিন পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশের অনুমান, সোনার গয়না বন্ধক রাখা ও আর্থিক লেনদেনের জেরে এই খুন। দোকানের সিসিটিভি-র ‘হার্ড ডিস্ক’ গায়েব হয়ে যাওয়ায় পেশাদার অপরাধী যুক্ত থাকতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। তবে প্রশ্ন উঠছে, আড়ংঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির একশো মিটারের মধ্যে পরিকল্পিত খুন শুধু নয়, খুনের পরে তথ্যপ্রমাণ লোপাটের ঘটনা ঘটল কী করে?
বুধবার রাতে স্ত্রীকে ফোন করে বিমল জানিয়েছিলেন, বন্ধকী গয়না ছাড়াতে টাকা নিয়ে জনৈক অলোক সুতার তাঁর দোকানে আসবেন। পরে, পাশের দোকানদার বাড়িতে খবর দেন, দোকানের ভিতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন বিমল। মুখে-মাথায় সোনা গলানোর শক্তিশালী অ্যাসিড ‘অম্লরাজ’ ছুড়ে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপানো হয় বলে পুলিশের ধারণা।
তদন্তকারীদের দাবি, অলোকও স্বর্ণ ব্যবসায় যুক্ত এবং তিনিও সোনা বন্ধক রেখে ঋণ দেওয়ার কারবার করেন। রাজু তাঁর সঙ্গী। বিমলের সঙ্গে দু'জনেরই পূর্বপরিচয় ছিল। ফলে, দোকানে সোনা গলানোর অ্যাসিড কোথায় রাখা থাকে, তা তাঁরা জানতেন। দোকান থেকে নগদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা এবং সোনার গয়নাও খোয়া গিয়েছে। জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, ধৃতদের জেরা করে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র, সিসিটিভি-র ‘হার্ড ডিস্ক’, লুট হওয়া নগদ টাকা ও গয়না উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।