অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণ-জটে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল রাজ্যে বিপুল নিয়োগ প্রক্রিয়া। এই সংক্রান্ত অনেকগুলি মামলা থাকা তার অন্যতম মূল কারণ। সম্প্রতি রাজ্য সরকার তেমন মামলাগুলি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। প্রশাসনের অন্দরের খবর, এক দিকে মামলা প্রত্যাহার এবং অন্য দিকে, ওবিসি সংশোধনী বিল বিধানসভায় পাশ করার ফলে নতুন ভাবে সংরক্ষণের বিষয়টিও বিবেচিত হবে। সেই পথে এ বার নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হবে বলে প্রশাসনের অন্দরের খবর। বিজ্ঞাপন ইত্যাদির কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট থেকে অন্তত ছ’টি মামলা প্রত্যাহার করেছে নবান্ন। অন্যত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আরও কিছু মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টি আর বিচারাধীন থাকছে না। তাই নিয়োগের কাজ শুরু করতে চাইছে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে নতুন সরকার যে বাজেট পেশ করেছে, তাতে এক লক্ষ শূন্য পদে নিয়োগের ঘোষণা হয়েছে। পঞ্চায়েতেও প্রায় সাড়ে ছ’হাজার নিয়োগের ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড় সংখ্যক নিয়োগের প্রত্যাশা রয়েছে। এই সব ক্ষেত্রে ওবিসি সংরক্ষণের বিষয়টি কার্যত বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কারণ, আদালতের রায়ে ২০১১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেওয়া সব ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করতে বলেছিল।
এ ছাড়া, সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল্ড কাস্টস অ্যান্ড শিডিউল্ড ট্রাইবস) রিজার্ভেশন অব ভেকেন্সিজ় ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্টস’ সংশোধনী বিল। ফলে এখন গরমিলের আওতায় থাকা ওবিসি তালিকাভুক্ত ১১৩টি জাতি বাদ গেল। তালিকাভুক্ত থেকে গিয়েছে ৬৬টি জাতি। সমান্তরালে ওবিসি ‘এ’ এবং ‘বি’ গোত্র তৈরি হওয়ায় আগে মোট সংরক্ষণ দাঁড়িয়েছিল ১৭ শতাংশে। ১১৩টি জাতি সংরক্ষণের আওতা থেকে বাদ চলে যাওয়ায়, এখন ওবিসি সংরক্ষণ দাঁড়িয়েছে ৭%-এ। ফলে এত দিনের ঝুলে থাকা নিয়োগ-আবেদনগুলি বিবেচিত হবে নতুন মানদণ্ডে।
আধিকারিক মহল জানাচ্ছে, কিছু দিন আগে পাবলিক সার্ভিস কমিশন ডব্লিউবিসিএস স্তরের প্রাথমিক পরীক্ষা (প্রিলিমস) নিয়েছে। তাতে লক্ষাধিক আবেদনকারী পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তার পরে এই সংশোধনী আইন পাশ হয়েছে। এখন বাকি রয়েছে মূল (মেনস) পরীক্ষা। ফলে সেই পরীক্ষায় সংরক্ষণের সমীকরণ কী হবে, তা নিয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়া চলছে বলে খবর। তবে বাদবাকি নিয়োগের ক্ষেত্রগুলিতে আপাতত আর বাধা নেই বলে প্রশাসনিকসূত্রের অনুমান।