দরপত্র (টেন্ডার) পদ্ধতি নতুন করে সাজানোর নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। একই সঙ্গে দীর্ঘ দিন ধরে আটকে থাকা টেন্ডারগুলির নিষ্পত্তিও দ্রুত করতে বলা হয়েছে সব দফতরকে। বর্ষার পরেই রাজ্যে সড়ক-সহ পরিকাঠামো সংক্রান্ত নানা কাজ শুরুর কথা। তার আগে টেন্ডার কমিটিগুলির যথাযথ গঠন সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি দফতরে (দফতরের অধীনস্থ বিভাগেও) টেন্ডার কমিটি গঠন করতে হবে। সেই কমিটির চেয়ারম্যান করা হবে যুগ্মসচিব বা কোনও উচ্চতর পদাধিকারীকে। সেই কমিটিতে কোনও ইঞ্জিনিয়ার বা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞকে রাখতে বলা হয়েছে। যাঁরা প্রকল্পের গুণমান-নকশা, রূপরেখা, প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে পারবেন। তা ছাড়া থাকবেন দফতরের সচিব, প্রধান সচিব বা অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের মনোনীত কোনও সিনিয়র আধিকারিক। প্রশাসনিক মহলের মতে, টেন্ডারের স্বচ্ছতা-উপযোগিতা এবং প্রকল্পের খরচ সরকারি বিধি অনুযায়ী যথাযথ ভাবে
নিশ্চিত করাই লক্ষ্য।
একই সঙ্গে, অর্থ দফতর লক্ষ্য করেছে, অনেক দফতর বহু ধরনের টেন্ডার ডেকেছিল। কিন্তু সেগুলির নিরিখে কাজ শুরু হয়নি, বাতিলও করা হয়নি। ফলে বিপুল সংখ্যক অমীমাংসিত টেন্ডার জমে রয়েছে। অর্থ দফতরের নির্দেশ, গত বছরের ৩১ অগস্ট পর্যন্ত জারি হওয়া অমীমাংসিত টেন্ডারগুলির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে যে টেন্ডারগুলি আইনি জটে আটকে, সেগুলি এই নির্দেশের আওতায় থাকছে না। আধিকারিকদের মতে, বিগত সরকারের আমলে যে টেন্ডারগুলি দিনের আলো দেখেনি, সেগুলির গ্রহণযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হবে এই প্রক্রিয়ায়।
এর সমান্তরালে চলতি আর্থিক বছরের (২০২৬-২৭) জন্য ঋণ এবং অগ্রিমে বার্ষিক সুদের হার
নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থা এবং শিল্প-বাণিজ্য সংক্রান্ত সমবায়গুলির বিনিয়োগ ঋণ, কার্যকরি মূলধনী ঋণ এবং অন্যান্য ঋণের সুদের হার ৭.৩২ শতাংশ হচ্ছে। পুরসভা, পুরনিগম, উন্নয়ন ট্রাস্ট, জেলা পরিষদ, হাউজ়িং বোর্ড এবং সমবায় সোসাইটির
সুদের হার একই থাকবে।