সুদূর সুইডেনের দক্ষিণ প্রান্তে শরৎ নামলেই যেন একটু অন্য রকম হয়ে ওঠে বাঙালির মন। নীল আকাশ, শীতের আগমনী হাওয়া আর প্রবাসের ব্যস্ততার মধ্যেও দুর্গাপুজো এনে দেয় চেনা এক শহরের গন্ধ— কলকাতার। সেই কলকাতাকেই এ বার হৃদয়ের আরও কাছে টেনে নিচ্ছে ‘বেঙ্গলি কালচারাল সোসাইটি অব সাউথ সুইডেন’। দশ বছরে পা দেওয়া তাদের দুর্গাপুজোর এ বারের ভাবনা ‘হৃদমাঝারে কলকাতা’।
সুইডেনের বিভিন্ন শহরে বেশ কয়েকটি দুর্গাপুজো হয়। স্টকহোম, গোথেনবার্গ ও লুন্ডে দুর্গাপুজোর পরিসর ও বৈচিত্র্য বেশ আলাদা। কিছু পুজো বহু বছর ধরে চলে আসছে, আবার নতুন প্রজন্মের উদ্যোগে নতুন পুজোও শুরু হয়েছে; বড় পুজোগুলিতে সকলের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মিলনমেলার আয়োজন থাকে, অন্য দিকে কিছু পুজো মূলত ঘনিষ্ঠ বাঙালি বা প্রবাসী পরিবারের নিজস্ব।
দশম বর্ষে বেঙ্গলি কালচারালের পুজোয় কলকাতা শুধু স্মৃতির শহর হয়ে থাকবে না, উঠে আসবে মণ্ডপ, শিল্প, খাবার, গান, নাটক এবং লেখায়। বিশেষ আকর্ষণ মণ্ডপসজ্জা। কলকাতার শিল্পীদের পরিকল্পনা ও শিল্পকর্মে সাজবে এ বারের মণ্ডপ। কলকাতায় তৈরি হচ্ছে মণ্ডপসজ্জার উপকরণ, যা পাড়ি দেবে সুইডেনে। প্রবাসের মাটিতে সেই শিল্পভাবনাতেই ফুটে উঠবে কলকাতার পরিচিত আবহ, নান্দনিকতা ও পুজোর চেনা রং। দশ বছর পূর্তির স্মারক হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে বিশেষ পুজো পত্রিকা ‘শরতের চিঠি’। কলকাতার নানা ছবি, পুজোর স্মৃতি এবং শহরকে ঘিরে লেখা নানা প্রবন্ধে সেখানে ফিরে আসবে সেই চেনা কলকাতা, যে শহর থেকে হাজার হাজার মাইল দূরেও বাঙালির মনকে টেনে রাখে।
এ বারের আয়োজনে বারবার ফিরে আসছে ‘দশ’-এর ছোঁয়া। থাকছে দশ পদের বিশেষ বাঙালি থালি এবং ‘দশভুজার দশ ব্যঞ্জন’। খাবারের স্বাদে তাই মিশবে বাঙালির ঐতিহ্য, স্মৃতি এবং দুর্গাপুজোর আবেগ। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও থাকবে কলকাতার উপস্থিতি— নাচ, গান ও নাটকের নানা পরিবেশনায় উঠে আসবে শহরের জীবন, সংস্কৃতি ও চেনা গল্প।
দশ বছর আগে ছোট্ট একটি উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয় এই পথচলা। সময়ের সঙ্গে সেই উদ্যোগই দক্ষিণ সুইডেনের বাঙালিদের এক আন্তরিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। দশম বর্ষে তাই কলকাতা যেন আরও একটু কাছে। মণ্ডপে, খাবারে, গানে, নাটকে, লেখায় ও সবচেয়ে বেশি করে হৃদয়ে।