বাঙালির কাছে উত্তমকুমার শুধু এক অভিনেতা নন, তিনি এক আবেগ, এক নস্টালজিয়ার নাম। সেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করতে চলেছেন বেলজিয়ামের প্রবাসী বাঙালিরা। এ বছর তাঁদের দুর্গোৎসবের মূল ভাবনায় থাকছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা— তাঁর অভিনয়, তাঁর গান এবং তাঁকে ঘিরে বাঙালির দীর্ঘদিনের ভালবাসার স্মৃতিমেদুর উদ্যাপন।
কর্মসূত্রে বেলজিয়ামে বসবাসকারী কয়েক জন বাঙালির উদ্যোগে ২০২১ সালে শুরু হয় দুর্গোৎসব। ব্রাসেলসের জেটেতে আয়োজিত এই পুজো ইতিমধ্যেই শুধু বেলজিয়াম নয়, ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী বাঙালিদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর ব্রাসেলস এবং পার্শ্ববর্তী নানা শহর থেকে বহু বাঙালি যোগ দেন এই উৎসবে।
এ বছর ১৭ থেকে ২০ অক্টোবর— চার দিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে দুর্গোৎসব। ১৭ অক্টোবর বেদমন্ত্র উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে উৎসব। থাকছে মহানায়কের জনপ্রিয় কয়েকটি গানে নৃত্যপরিবেশনার মাধ্যমে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন। পাশাপাশি কলকাতার প্রখ্যাত শাস্ত্রীয় বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পরিবেশনাও হবে এ বারের অন্যতম আকর্ষণ।
উৎসব মানেই অবশ্য বাঙালির রসনাতৃপ্তি। তাই পুজোর চার দিন থাকছে বাঙালির চিরকালীন প্রিয় নানা খাবারের আয়োজনও। অর্থাৎ প্রবাসের মাটিতে শারদোৎসবের আবহে একসঙ্গে মিলবে গান, নাচ, সংস্কৃতি, স্মৃতি আর বাঙালিয়ানার স্বাদ।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শুধু দুর্গাপুজো উদ্যাপন নয়, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যোগসূত্রটিকেও আরও দৃঢ় করে তোলা। উত্তমকুমারের জন্মশতবর্ষকে কেন্দ্র করে এ বারের আয়োজন সেই সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দেবে বলে আশা আয়োজকদের।
আর পুজো শেষ হলেই যে উৎসবের ইতি, তা নয়। বিজয়া সম্মিলনী এবং দীপাবলি উদ্যাপনেও থাকছে বিশেষ চমক। কলকাতার জনপ্রিয় বিরিয়ানির সঙ্গে থাকবে কলকাতার সুপরিচিত সঙ্গীতশিল্পীর সুরের মূর্চ্ছনা। সব মিলিয়ে, ব্রাসেলসের বুকে এ বার দুর্গোৎসব হয়ে উঠতে চলেছে মহানায়কের স্মৃতি আর বাঙালির চিরন্তন উৎসব-আবেগের এক অনন্য মিলনমেলা।