E-Paper
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে

ধর্মের বেড়া ভেঙে ঢল জগন্নাথ হলের আরাধনায়

জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং সম্প্রীতির ধারক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল। সেই ঐতিহ্যের ধারা মেনে এ বারও জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সাড়ম্বরে আয়োজন করা হয় সরস্বতী পুজোর।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগ বিভাগের সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ। তাতে স্থান পেয়েছে সুফি সম্প্রদায়ের উপরে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগ বিভাগের সরস্বতী পুজোর মণ্ডপ। তাতে স্থান পেয়েছে সুফি সম্প্রদায়ের উপরে হামলা, ভিড়-সন্ত্রাস, সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক সংস্থাগুলিকে নিশানা করে আক্রমণের ঘটনা। — নিজস্ব চিত্র।

বাংলাদেশ জুড়ে বিদ্যার দেবীর আরাধনা হয়েছে শুক্রবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজিত হয়েছেন বিদ্যার দেবী সরস্বতী। আপাতদৃষ্টিতে উৎসাহ-উদ্দীপনার খামতি ছিল না। কিন্ত অনেকেই বলেছেন, আগের মতো আনন্দটা আর নেই।

জ্ঞান, সংস্কৃতি এবং সম্প্রীতির ধারক হিসেবে পরিচিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল। সেই ঐতিহ্যের ধারা মেনে এ বারও জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সাড়ম্বরে আয়োজন করা হয় সরস্বতী পুজোর। উৎসব মুখর প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে মিলনমেলা। ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাগদেবীর আরাধনা হলেও জগন্নাথ হলের উৎসব ভিন্ন মাত্রা পেয়ে থাকে। এক ছাত্রীর কথায়, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ নিজেদের মতো করে এখানে পুজো করে। এ দিনটার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হয়। এক মাঠে এতগুলিপুজো, সত্যিই একটা অন্য মাত্রা পায় এই উৎসব।’’

জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে এ বার ৭৬টি পুজো মণ্ডপ রয়েছে। তার মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে নজর কেড়েছে চারুকলা পরিষদের শিক্ষার্থীদের নির্মিত বড় আকারের প্রতিমা, যা জগন্নাথ হলের পুকুরে স্থাপন করা হয়। জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকতা এবং গণযোগাযোগ বিভাগের মণ্ডপের থিম সাম্প্রতিক ঘটনাবলি। এখানে দেবী সরস্বতীর দু’হাতে দু’টি বই। একটির বিষয়বস্তু হল, সুফিবাদের হাত ধরে কী ভাবে বাংলাদেশে ইসলাম ধর্ম এসেছে। গত দেড় বছরে সুফিদের শতাধিক মাজার ভাঙা হয়েছে। আর একটি হাতে মব-সন্ত্রাসের বিষয়ের একটি বই। আর একটি হাতে একতারা। যার অর্থ, বাউলদের উপরে কী ভাবে সঙ্ঘবদ্ধ আক্রমণ, গ্রেফতার এবং ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। প্রতিমার পায়ের কাছে ভাঙা হারমোনিয়াম, গিটারের ছেঁড়া তার ছায়ানট, উদীচীর মতো প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ এবং আগুন দেওয়ার প্রতীক। পিছনে প্রতীকী সজ্জা—পুড়িয়ে দেওয়া ‘ডেলি স্টার’-এর দফতর।

জগন্নাথ হলের একটি মণ্ডপে ছাত্রছাত্রীদের অঞ্জলি। শুক্রবার।

জগন্নাথ হলের একটি মণ্ডপে ছাত্রছাত্রীদের অঞ্জলি। শুক্রবার। — নিজস্ব চিত্র।

এ দিন সকাল থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, প্রাক্তনীরা-সহ সাধারণ মানুষ এসেছেন এই প্রাঙ্গণে। দু’দিনব্যাপী চলবে এই আয়োজন। এক আয়োজকের কথায়, ‘‘আমরা চেষ্টা করেছি সব কিছু সুন্দর ভাবে করার। গত বারের চেয়ে এ বার পুজো অনেক ভাল হয়েছে।’’ তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপক-অধ্যাপিকার আক্ষেপ, মব সন্ত্রাসের কারণে এ বার তাঁরা জগন্নাথ হল প্রাঙ্গণে হাজির হতে পারেননি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ম্বরেই উদ্‌যাপিত হয়েছে সরস্বতী পুজো। তবে অনেকই বলেছেন, প্রতিমা দর্শন, ঘুরে বেড়ানো— সবই ছিল। কিন্তু ২০২৪-এর ৫ অগস্টের আগে যে আনন্দটা ছিল, সেটা নেই।

এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
Bangladesh Dhaka university

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy