ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও দ্রুত পরিবর্তন আসছে। এর পাশাপাশি চিকিৎসা বিজ্ঞানের আনুষঙ্গিক বা অ্যালায়েড হেল্থ সায়েন্সের বিভিন্ন কোর্সের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহও বাড়ছে। এর মধ্যে অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি ক্ষেত্র হল অডিয়োলজি অ্যান্ড স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজি। শ্রবণ সমস্যা, কথা বলা, ভাষা, তোতলামি বা খাবার গিলতে অসুবিধার মতো সমস্যার মূল্যায়ন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে অডিয়োলজিস্ট এবং স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজিস্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পেশায় কী ভাবে নিযুক্ত হওয়া যায়, তা-ই আলোচনা করা হল এই প্রতিবেদনে।
কী এই কোর্স?
এই বিভাগে পড়াশোনার প্রধান ডিগ্রি কোর্সটি হল বিএএসএলপি (ব্যাচেলর অফ অডিয়োলজি অ্যান্ড স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথোলজি)। এটি সাধারণত চার বছর মেয়াদি একটি স্নাতক কোর্স (তিন বছরের পাঠক্রম এবং এক বছরের ক্লিনিক্যাল ইন্টার্নশিপ)।
শুধু কানের সমস্যাই নয়, কথা বলতে অসুবিধা হলে কোন পদ্ধতিতে তা ঠিক হতে পারে, সেই পাঠও মিলবে এই কোর্সে। স্নাতকের পর চাইলে এই বিষয়ে স্পেশ্যালাইজ় করারও সুযোগ রয়েছে। স্নাতক স্তরে ভর্তির জন্যও দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিষয় থাকতে হয়। অ্যানাটমি, ফিজ়িয়োলজি এবং নিউরোলজি, কানের গঠন, শোনার সমস্যা নির্ণয়, অডিয়োমেট্রি পরীক্ষা এবং হিয়ারিং এড সেট করা, সেই সঙ্গে তোতলামি, স্বরযন্ত্রের সমস্যা, অটিজ়ম বা স্ট্রোক-পরবর্তী বাক্শক্তি হারানোর থেরাপি-সহ আরও নানা বিষয় পড়ানো হয় এই কোর্সে।
যোগ্যতা
প্রার্থীর বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান বিষয়-সহ অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে (সংরক্ষিত শ্রেণির প্রার্থীদের জন্য ৫ শতাংশ ছাড় থাকে)। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভর্তির সময় প্রার্থীর ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর হতে হয়।
ভর্তির পদ্ধতি প্রতিষ্ঠান ভেদে আলাদা। কোথাও মেধার ভিত্তিতে, কোথাও আবার নিজস্ব বা নির্দিষ্ট প্রবেশিকার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। তবে, কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে কুয়েট ইউজি-র মতো জাতীয় স্তরের প্রবেশিকার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি প্রবেশিকা রয়েছে, যেগুলি উত্তীর্ণ হয়েও স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শুরু করা যায়।
ভারতে বেশ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই কোর্সটি করানো হয়—
আলি ইয়াভার জং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্পিচ অ্যান্ড হিয়ারিং ডিজ়এবিলিটিজ় (এওয়াইজেএনআইএসএইচডি)। এর মূল ক্যাম্পাস মুম্বাইয়ে এবং পূর্বাঞ্চলীয় শাখা কলকাতাতেও রয়েছে।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ স্পিচ অ্যান্ড হিয়ারিং (এআইআইএসএইচ ) মাইসুরু।
অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এমস) দিল্লি।
ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেল্থ সায়েন্সেস (ডব্লিউবিইউএইচএস)-এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানে পড়ানো হয়।
পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ।
পেশাগত সুযোগ কেমন?
আরসিআই-স্বীকৃত যোগ্যতা অর্জনের পর সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার সেন্ট্রাল রিহ্যাবিলিটেশন রেজিস্টারে নাম নথিভুক্ত করে পেশাগত কাজ করতে পারেন। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, স্পেশ্যাল স্কুল, রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার, অটিজ়ম কেয়ার সেন্টার, হিয়ারিং এড প্রস্তুতকারী বহুজাতিক সংস্থা এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া, নিজস্ব ক্লিনিক খুলে স্বাধীন ভাবে ‘স্পিচ থেরাপিস্ট’ বা ‘অডিয়োলজিস্ট’ হিসেবে কাজ শুরু করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে আয় প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্র ভেদে আলাদা হতে পারে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল, ক্লিনিক, বেসরকারি সংস্থা বা নিজস্ব প্র্যাকটিসে আয়ের সুযোগও বাড়ে।