স্টিফেন হকিং ও পিটার হিগসের সঙ্গে নাম জুড়েছে ভারতীয় বিজ্ঞানী অশোক সেনের। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে সম্প্রতি সদ্য অস্কার ক্লেইন পদক পেয়েছেন। বুধবার সেই অশোক সেন এলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আলোচনা করলেন তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার নানা খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে।
এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে আয়োজন করা হয় ‘প্রফেসর এস কে মিত্র মেমোরিয়াল লেকচার’। সেখানেই বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজ্ঞানী অশোক সেন। ইনস্টিটিউট অফ রেডিয়োফিজ়িক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করেছিল রেডিয়োফিজ়িক্স অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন। ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’ বিষয়ের উপর মূলত আলোকপাত করেন বিজ্ঞানী। স্ট্রিং তত্ত্বের সাহায্যে মহাকর্ষের ব্যাখ্যা এবং মহাকর্ষের ধারণা থেকে স্ট্রিং তত্ত্বের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। এ দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক, গবেষক ও পড়ুয়ারাও।
অনুষ্ঠানের শেষে এক সংবাদমাধ্যমকে অশোক সেন জানিয়েছেন, বিদেশে থেকেই যে সবসময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেতে হবে, এমনটা না-ও হতে পারে। তাঁর মতে, যেখানে থেকেই কাজ করা হোক না কেন, চেষ্টা করতে হবে কাজ করার। এর কোনও আলাদা ম্যাজিক ফর্মুলা নেই। কাজ করতে করতেই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া যেতে পারে। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার একটি ভাল বিষয় হল, এতে কোনও এক্সপেরিমেন্টের ব্যাপার নেই এবং বেশি টাকারও বিষয় নেই। পাশাপাশি তিনি আরও জানিয়েছেন, যেখানে বিজ্ঞানীদের সংখ্যা বেশি হবে সেখানে কাজের পরিসরটাও বেশি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাঁর কাছে তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার জন্য আলাদা করে বিদেশে যে পাড়ি দিতেই হবে তেমনটা নয়। দেশে থেকেও গবেষণা করা সম্ভব।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরে ‘অস্কার ক্লেইন মেডেল ২০২৬’ পেয়েছেন অধ্যাপক অশোক সেন। স্টকহোলম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে নোবেল কমিটি ফর ফিজ়িক্সের সহযোগিতায় এই পদক দেওয়া হয়। এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞানী তিনি। তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে, বিশেষত স্ট্রিং তত্ত্বের ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণার স্বীকৃতি হিসাবেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।