Health Partner
Comfort Partner
Knowledge Partner

এখনও বাচ্চাদের ভয় দেখানো হয় ‘হাউ’-র নাম বলে, জানেন কোচ উপজাতির জনপ্রিয় এই হাউ আসলে কে?

হাউ নিয়ে কোনও লিখিত দলিল এখনও পাওয়া যায়নি। আজও লোকমুখেই ‘হাউ’ চরিত্রটি টিকে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোচ সমাজের মানুষের মুখে মুখে ঘুরেছে এই নাম।

আনন্দ উৎসব ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০২৬ ২২:৩৯
কোচ সম্প্রদায়ের লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘হাউ’ চরিত্র। বাড়ির বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে আজও বাড়ির বড়রা ‘হাউ’ আসার ভয় দেখান। তবে, এই হাউ-এর প্রকৃত পরিচয় আজও স্পষ্ট নয়।
০১ / ১০

কোচ সম্প্রদায়ের লোকবিশ্বাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ‘হাউ’ চরিত্র। বাড়ির বাচ্চারা দুষ্টুমি করলে আজও বাড়ির বড়রা ‘হাউ’ আসার ভয় দেখান। তবে, এই হাউ-এর প্রকৃত পরিচয় আজও স্পষ্ট নয়।

হাউ নিয়ে কোনও লিখিত দলিল এখনও পাওয়া যায়নি। আজও লোকমুখেই ‘হাউ’ চরিত্রটি টিকে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোচ সমাজের মানুষের মুখে মুখে ঘুরেছে এই নাম।
০২ / ১০

হাউ নিয়ে কোনও লিখিত দলিল এখনও পাওয়া যায়নি। আজও লোকমুখেই ‘হাউ’ চরিত্রটি টিকে রয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোচ সমাজের মানুষের মুখে মুখে ঘুরেছে এই নাম।

মেঘালয়ে হাউয়ের চরিত্র একটি কালো কাঠের উপর তৈরি করা হয়। মুখোশটির চোয়াল নাড়ানো যায়। এর সঙ্গে থাকে একটি ঘণ্টা এবং একটি তরবারি। মুখোশটির অদ্ভুত গঠন ও ভয়ংকর অবয়ব দেখেই ভয় পায় মানুষ। কোচ সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও এই মুখোশের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
০৩ / ১০

মেঘালয়ে হাউয়ের চরিত্র একটি কালো কাঠের উপর তৈরি করা হয়। মুখোশটির চোয়াল নাড়ানো যায়। এর সঙ্গে থাকে একটি ঘণ্টা এবং একটি তরবারি। মুখোশটির অদ্ভুত গঠন ও ভয়ংকর অবয়ব দেখেই ভয় পায় মানুষ। কোচ সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেও এই মুখোশের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

শ্রী কুলারাজন বর্মনের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে হাউ-এর মুখোশ সংরক্ষণের কাজ করছেন। তাঁদের আদি বাসস্থান ছিল অসমের গোয়ালপাড়া জেলার লোটিবাড়ি গ্রাম। পরে তাঁরা মেঘালয়ের টিকরিকিল্লিতে চলে আসেন।
০৪ / ১০

শ্রী কুলারাজন বর্মনের পরিবার কয়েক প্রজন্ম ধরে হাউ-এর মুখোশ সংরক্ষণের কাজ করছেন। তাঁদের আদি বাসস্থান ছিল অসমের গোয়ালপাড়া জেলার লোটিবাড়ি গ্রাম। পরে তাঁরা মেঘালয়ের টিকরিকিল্লিতে চলে আসেন।

 কুলারাজন বর্মনের পূর্বপুরুষরা বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা।  তাঁদের পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, রাম ও বীর নামে দুই ভাই বিহার থেকে এদিকে চলে আসেন। কুলারাজন বর্মনের এও দাবি যে, তিনি রামের দশম প্রজন্মের উত্তরসূরি।
০৫ / ১০

কুলারাজন বর্মনের পূর্বপুরুষরা বিহারের পূর্ণিয়ার বাসিন্দা। তাঁদের পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী, রাম ও বীর নামে দুই ভাই বিহার থেকে এদিকে চলে আসেন। কুলারাজন বর্মনের এও দাবি যে, তিনি রামের দশম প্রজন্মের উত্তরসূরি।

 মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, একসময় পরিবারের প্রধান যুদ্ধের সময় হাউ-এর মুখোশ পরতেন। পরে এর ব্যবহার বদলে যায় এবং মুখোশটি শিকারের কাজেও ব্যবহার করা হত।
০৬ / ১০

মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, একসময় পরিবারের প্রধান যুদ্ধের সময় হাউ-এর মুখোশ পরতেন। পরে এর ব্যবহার বদলে যায় এবং মুখোশটি শিকারের কাজেও ব্যবহার করা হত।

হাউ-এর মুখোশের সঙ্গে থাকত একটি বিশেষ ঘণ্টা, যার নাম ‘দালাঘাটা’, এবং একটি তরবারি। ঘণ্টাটি দেখতে অনেকটা গবাদি পশুর গলায় বাঁধা ঘণ্টার মতো। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, শিকারের সময় এই ঘণ্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রাণীদের আকৃষ্ট করা হতো।
০৭ / ১০

হাউ-এর মুখোশের সঙ্গে থাকত একটি বিশেষ ঘণ্টা, যার নাম ‘দালাঘাটা’, এবং একটি তরবারি। ঘণ্টাটি দেখতে অনেকটা গবাদি পশুর গলায় বাঁধা ঘণ্টার মতো। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, শিকারের সময় এই ঘণ্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রাণীদের আকৃষ্ট করা হতো।

 হাউ-কে কেন্দ্র করে প্রচলিত শিকারের পদ্ধতিও ছিল বেশ অভিনব। শিকারিরা প্রথমে ঘণ্টার শব্দের মাধ্যমে প্রাণীদের আকৃষ্ট করতেন। এরপর ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে হঠাৎ ভয়ংকর মুখোশ পরে বেরিয়ে আসতেন। সেসময়ই প্রাণীদের উপর হামলা করতেন শিকারিরা।
০৮ / ১০

হাউ-কে কেন্দ্র করে প্রচলিত শিকারের পদ্ধতিও ছিল বেশ অভিনব। শিকারিরা প্রথমে ঘণ্টার শব্দের মাধ্যমে প্রাণীদের আকৃষ্ট করতেন। এরপর ঝোপঝাড়ের আড়াল থেকে হঠাৎ ভয়ংকর মুখোশ পরে বেরিয়ে আসতেন। সেসময়ই প্রাণীদের উপর হামলা করতেন শিকারিরা।

সময়ের সঙ্গে আজ বন্ধ হয়েছে শিকারের পদ্ধতিও। ফলে হাউ-এর মুখোশ ও তার সঙ্গে ব্যবহৃত সামগ্রীর ব্যবহারও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে মুখোশটি রয়েছে সেটি পারিবারিক স্মারক হিসেবে রয়ে গিয়েছে।
০৯ / ১০

সময়ের সঙ্গে আজ বন্ধ হয়েছে শিকারের পদ্ধতিও। ফলে হাউ-এর মুখোশ ও তার সঙ্গে ব্যবহৃত সামগ্রীর ব্যবহারও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে মুখোশটি রয়েছে সেটি পারিবারিক স্মারক হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

হাউ-এর মুখোশের ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও কোচ সমাজের এখনও হাউ প্রচলিত। হাউ একটি প্রাচীন রহস্যময় চরিত্র। সময়ের সঙ্গে ব্যবহার বদলালেও সমাজ থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়নি।
১০ / ১০

হাউ-এর মুখোশের ব্যবহার বন্ধ হয়ে গেলেও কোচ সমাজের এখনও হাউ প্রচলিত। হাউ একটি প্রাচীন রহস্যময় চরিত্র। সময়ের সঙ্গে ব্যবহার বদলালেও সমাজ থেকে সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়নি।

এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy