ধনতেরাসে সোনা কিনতে গিয়ে ঠকে যাচ্ছেন না তো? এই কয়েকটি জিনিস মাথায় না রাখলে লাখ টাকার ক্ষতি
আর দুই রাত পোহালেই ধনতেরাস। অবাঙালি এবং বাঙালি প্রত্যেকে নিজের ধন-সম্পদ বৃদ্ধির কামনা করে এই দিন পুজো করেন। যে যার সাধ্যমত জিনিস কেনেন। ধনতেরাসে সোনা কিনতে গেলে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতেই হবে।
সোনা শুধু সৌন্দর্যের অঙ্গ নয়, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ও বটে। তাই খাঁটি সোনা ঘরে তুলছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে কেনাকাটার সময়ে মাথায় রাখুন এই জরুরি বিষয়গুলি।
বি আই এস হলমার্ক যাচাই করুন : গয়নায় বি আই এস ( ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস ) চিহ্ন ও এইচ ইউ আই ডি (হলমার্ক ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন) নম্বর আছে কি না দেখুন। এই চিহ্ন ও নম্বর না থাকলে কখনও সোনার গয়না কিনবেন না। সোনার বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি হলো বিআইএস।
সোনা কেনার আগে ক্যারেটের হিসাব স্পষ্ট জানা প্রয়োজন। ২৪ ক্যারেট সোনা হলো ১০০ শতাংশ খাঁটি, তবে তা দিয়ে সাধারণত পাতলা কয়েন বা বার তৈরি হয়, গয়না গড়া যায় না। গয়না তৈরির জন্য মূলত ২২ ক্যারেট (৯১.৬ শতাংশ খাঁটি) কিংবা ১৮ ক্যারেট (৭৫ শতাংশ খাঁটি) সোনা ব্যবহার করা হয়। আপনি ঠিক কী কিনছেন তা যাচাই করা জরুরি।
দোকানে গিয়ে শুধু চোখের দেখায় ভরসা না রেখে নিজের স্মার্টফোনের ‘বিআইএস কেয়ার’ অ্যাপে ৬ অঙ্কের আলফানিউমেরিক ‘এইচইউআইডি' বসিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন গয়নার বিশুদ্ধতা ও প্রস্তুতকারকের পরিচয়।
সোনার দৈনিক দাম জেনে নিন: সোনার দাম প্রতিদিন বদলায়। এই মুহূর্তের বেশ খানিকটা কমেছে দাম। কেনাকাটা করতে যাওয়ার আগেই নির্ভরযোগ্য সূত্রে ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার চলতি দিনের সরকারি রেট জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
এর পর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গয়না তৈরির খরচ বা ‘মেকিং চার্জ’। বিভিন্ন দোকানে নকশার জটিলতার ওপর ভিত্তি করে গয়না তৈরির পারিশ্রমিকের তারতম্য ঘটে। তাই কোন দোকানে সবচেয়ে ভাল ছাড় চলছে তা জানা থাকলে বেশ কিছু টাকা সাশ্রয় হয়।
জিএসটি-র হিসাব বুঝুন: নগদ লেনদেনে ছাড়ের প্রলোভনে পা না দিয়ে সর্বদা সঠিক জিএসটি যুক্ত রসিদ নেওয়া আবশ্যক।
এখন কুন্দন বা রত্নখচিত সোনার গয়নার চল খুব বেশি। অনেক সময় অসাবধানতাবশত গয়নার মোট ওজনের সঙ্গেই পাথরের ওজন ধরে সোনার দাম হিসাব করা হয়, যা ক্রেতার বিরাট লোকসান। নিয়ম অনুযায়ী, মোট ওজন থেকে পাথরের ওজন বাদ দিয়ে খাঁটি সোনার যে প্রকৃত ওজন থাকে, কেবল তার ওপরেই সোনার দর ধার্য হবে।
দোকানের ‘বাই-ব্যাক পলিসি’ অর্থাৎ ভবিষ্যতে গয়না পরিবর্তন বা বিক্রি করার সময় কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, তা রসিদের পিছনে লিখিয়ে নেওয়াও বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ুন:
সর্বোপরি বিশ্বস্ত দোকান থেকেই সোনা কেনা উচিৎ। শুধুমাত্র নকশা পছন্দ হলেই যে কোনও দোকান থেকে সোনা কিনে নেওয়া উচিৎ নয়। এতে ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। চোখধাঁধানো অফার বা অবিশ্বাস্য ছাড়ের বিজ্ঞাপনে বিভ্রান্ত হওয়া কখনওই কাম্য নয়। এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।