পোষ্য বিড়ালই শেষে ‘মৃত্যুর দূত’! চিনের রাজপ্রাসাদ কাঁপিয়ে দেওয়া কে ছিল ‘মাও গুই’?
প্রাচীন চিনের ইতিহাসে এই মাও গুইয়ের কথা পাওয়া যায় চিনের সুই রাজবংশের সময়কার ঐতিহাসিক বিবরণে। জানা যায়, ষষ্ঠ শতকের শেষভাগে এই অদ্ভুত আত্মাকে ঘিরে রাজপরিবারেও নাকি ছড়িয়েছিল প্রবল আতঙ্ক।
বিড়াল কার না ভাল লাগে! পৃথিবীতে বিড়ালপ্রেমী মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। ছোট ছোট পায়ে বাড়ির সামনে হঠাৎই হাজির হলে তাঁকে আদর-যত্নে ঘরে তুলে নেওয়াটাই স্বাভাবিক। এখানেই সাবধান!
অন্তত চিনের এই ভয়ঙ্কর কাহিনি ইঙ্গিত দিচ্ছে তারই। কারণ সেই উপকথায় উল্লেখ পাওয়া যায় এমন এক অতিপ্রাকৃত সত্তার, যা দেখতে বিড়াল হলেও আদপে বিড়ালই নয়!
মাও গুই। বিড়ালের সঙ্গে সম্পর্কিত এই অশুভ আত্মা একসময় নানা কুসংস্কার ও অলৌকিকতার জন্ম দিয়েছিল চিনে।
প্রাচীন চিনের ইতিহাসে এই মাও গুইয়ের কথা পাওয়া যায় চিনের সুই রাজবংশের সময়কার ঐতিহাসিক বিবরণে। জানা যায়, ষষ্ঠ শতকের শেষভাগে এই অদ্ভুত আত্মাকে ঘিরে রাজপরিবারেও নাকি ছড়িয়েছিল প্রবল আতঙ্ক।
সেই সময়ে সম্রাটের আত্মীয় দুগু তুওর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে তিনি নাকি এই মাও গুইয়ের সাহায্যে সম্রাজ্ঞী এবং এক সেনাপতির স্ত্রীকে অসুস্থ করে তুলতে চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য, তাঁদের কাছ থেকে অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়া।
আরও পড়ুন:
জানা যায়, বিশেষ তন্ত্রসাধনার বলেই নাকি অন্যের ক্ষতি করার কাজে ব্যবহার করতেন এই মাও গুইকে।
প্রাচীন চিনের ইতিহাস বলছে, লোকবিশ্বাসে এই মাও গুইকে সাধারণ কোনও বিড়াল হিসেবে দেখা হত না। মনে করা হত, তন্ত্র-মন্ত্রের মাধ্যমে বিড়ালের আত্মাকে নাকি বশে এনে তাকে কুকর্মে ব্যবহার করা হত।
জানা যায়, যাঁরা এর উপাসনা করতেন, তাঁরা চাইলেই একে, অন্যের বাড়িতে পাঠিয়ে অসুস্থতা ও বিপদ ডেকে আনতে পারতেন।
কিছু প্রাচীন বিবরণে এমনও দাবি করা আছে যে, মাও গুইয়ের প্রভাবে আক্রান্ত ব্যক্তি তীব্র পেটের যন্ত্রণায় ভুগতেন। রক্তবমিও হয়। শেষে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত এমনটাই ঘটে চলত বারবার।
আরও পড়ুন:
যদিও এই মাও গুইয়ের কোনও নির্দিষ্ট চেহারার বিবরণ বা সর্বজনস্বীকৃত রূপ পাওয়া যায় না কোনও প্রাচীন নথিতে। বিজ্ঞান এই মাও গুইয়ের অস্তিত্বকেও উড়িয়ে দিয়েছে। তবু লোককথায় আজও প্রতি ক্ষেত্রে রয়েছে এর উপস্থিতি।
আজকের দিনে অ্যানিমে, মাঙ্গা বা ভিডিও গেমে যে ‘ডেমন ক্যাট’ বা জাদুকরী বিড়াল দেখা যায়, তার অনুপ্রেরণা কিন্তু এই মাও গুই! (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)