ধনতেরসে এই ঠাকুরের পুজো না দিলে রুষ্ট হন ধনদেবীও! লক্ষ্মীর পাশাপাশি তাঁরও আরাধনা করছেন তো?
সাধুর কথামতো সেই ব্রাহ্মণ দেবীর পুজো করেন এবং লক্ষ্মীর আশীর্বাদে প্রচুর ধনলাভ করেন। সেই থেকেই শুরু।
তিনি ধনসম্পদের দেবী। নিষ্ঠাভরে আরাধনা করলে, তাঁর হাত ধরেই নাকি সংসারে আসে সুখ, সমৃদ্ধি এবং সম্পদ। এই বিশ্বাস মনে জড়িয়েই মানুষ পুজো করে আসছেন ধনদেবী লক্ষ্মীর।
এর নেপথ্যের কাহিনি জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হয় বহু বছর আগে। পুরাণ মতে, হতদরিদ্র এক ব্রাহ্মণের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার জন্য এক সাধু তাঁকে দেবী লক্ষ্মীর পুজো করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
সাধুর কথামতো সেই ব্রাহ্মণ দেবীর পুজো করেন এবং লক্ষ্মীর আশীর্বাদে প্রচুর ধনলাভ করেন। সেই থেকেই শুরু।
লক্ষ্মীর বিষয়টা তো না হয় বোঝা গেল। এখন প্রশ্ন হল, ধনসম্পদের আরাধনায় দেবীর সঙ্গে পূজিত হন আরও এক দেব, তিনি সিদ্ধিদাতা অর্থাৎ গণেশ।
এমনকি ধনতেরসের দিনেও এর অন্যথা নেই। লক্ষ্মী এবং ধনপতি কুবেরের সঙ্গে একইভাবে পূজো নেন গণপতি। কিন্তু কেন?
আরও পড়ুন:
এর ব্যাখ্যাও মেলে পুরাণে। বলা হয়, কথিত, দেবী লক্ষ্মীর কোনও সন্তান ছিল না। তাই তিনি গণেশকে নিজের পুত্ররূপে দত্তক নিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তিনি এও ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁর সমস্ত সমৃদ্ধি এবং সম্পদে গণেশের অধিকার রয়েছে।
কথিত, দেবী নাকি নিজেই বলেছিলেন, তিনটি জগতে যদি কেউ তাঁর সঙ্গে গণেশের উপাসনা না করেন, তবে সেই ব্যক্তির জীবনে কখনওই সমৃদ্ধি আসবে না।
অবশ্য, পুরাণের পাতা উল্টে দেখলে এর আরও একটি ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।
গণেশ হলেন জ্ঞানের দেবতা। সঠিক জ্ঞান ছাড়া যদি অর্থ যে কোনও খাতে ব্যয় করা হয়, তা হলে তাতে নাকি ক্ষতি বই লাভ হয় না।
আরও পড়ুন:
এমন সমস্ত বিশ্বাসই পুরাণের পাতা থেকে লোকমুখে প্রসারিত হয়েছে মানবজীবনে। সামনেই তো ধনত্রয়োদশী, আর্থিক সমৃদ্ধি লাভে নিষ্ঠাভরে আরাধনা করতেই পারেন সিদ্ধিদাতার। (এই প্রতিবেদনটি ‘আনন্দ উৎসব’ ফিচারের একটি অংশ।)