মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী সপ্তাহেই। বুধবার বিকাশ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানালেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। একই সঙ্গে মন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, এ বার থেকে সব পাঠ্যবইয়ের প্রথমেই থাকবে বন্দে মাতরম্ গান।
এ দিন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‘পরীক্ষা আমাদের পিছোতে হবে। কারণ দিল্লি থেকে সেন্সাস বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে যা থেকে জানা যাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমাদের জনগণনা চলবে। মাধ্যমিক পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি মাসে এবং মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়। সে ক্ষেত্রে মাধ্যমিক পরীক্ষাটা আমাদের পিছিয়ে দিতে হবে। আর উচ্চমাধ্যমিক যেহেতু মাধ্যমিকের পরে হয়, সেই কারণে সেই পরীক্ষাটাও আমাদের রিসিডিউল করতে হবে।’’ পরীক্ষা পিছোনার ব্যাপারে প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব নিয়ে তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করবেন বলে মন্ত্রী জানান।
২০২৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা চলতে পারে ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত। এই কাজে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে যুক্ত থাকতে হবে। ফলে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে মাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হলে শিক্ষকসঙ্কট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা। তাই গত ২ নভেম্বর মধ্যশিক্ষা পর্ষদ প্রস্তাব দিয়েছে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার। একই ভাবে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফেও জানানো হয়েছে, মার্চের শেষেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা হতে পারে। সেইমতো আলোচনা চলছে। এ দিন মন্ত্রী জানিয়ে দিলেন আগামী সপ্তাহেই পরিবর্তিত সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা পিছোনো নিয়ে আমাদের একটা চিন্তাভাবনা হয়েছে। তবে সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। প্রস্তাব এসেছে। প্রস্তাব সিদ্ধান্তে পরিণত হলে আগামী সপ্তাহে জানিয়ে দেওয়া হবে।’’
নতুন বই হাতে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।
তবে প্রশ্ন থেকে যায় দু’জায়গায়। প্রথমত, প্রস্তাবিত মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচিতে ২ মার্চ থেকে শুরুর কথা বলা হয়েছে। যদিও জনগণনায় সংশোধিত তালিকার কাজ চলার কথা ৫ মার্চ পর্যন্ত। ফলে ২ মার্চ থেকে পরীক্ষা শুরু হলে শিক্ষকসঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা। আর দ্বিতীয়ত, উচ্চমাধ্যমিক মার্চের শেষে শুরু হলেও শেষ হতে প্রায় এপ্রিলের মাঝামাঝি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আশঙ্কা, সর্বভারতীয় নানা পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে পড়ুয়াদের।
এ দিন এর উত্তরে মন্ত্রী জানান, সংশোধিত তালিকার কাজ চলার বিষয়টিকেও মাথায় রেখেই পর্যালোচনা চলছে। এবং পড়ুয়াদের সর্বভারতীয় পরীক্ষায় বসার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘সর্বভারতীয় পরীক্ষা এবং তার সঙ্গে যে ফলপ্রকাশ, তার কোনওটিরই সঙ্গে কোনও সংঘাত ঘটবে না।’’
এর পাশাপাশি মন্ত্রী এ দিন জানান, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে পাঠ পড়ুয়াদের দেওয়া হয়, তার কোনও নির্দিষ্ট পাঠ্যক্রম এবং বই ছিল না। এ বারে ওই চার শ্রেণির জন্য বই প্রকাশ করে মন্ত্রী জানালেন, এ বার থেকে ওই বিষয়ে পরীক্ষাও হবে। রোবটিক্স, কোডিং এবং পাইথন-সহ নানা বিষয় ওই বইয়ে থাকছে। সার্বিক ভাবে সব বিষয়ের বইয়ে যুক্ত হচ্ছে নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য এবং পুরো বন্দে মাতরম্ গানটিও। সংবিধানের প্রস্তাবনার পরের পাতাতেই থাকছে এই মৌলিক অধিকার ও কর্তব্য এবং তার পরের পাতায় বন্দে মাতরম্ গান। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে যে তৃতীয় ভাযা পড়ানো হয় তারও কোনও বই ছিল না। এ বারে সংস্কৃত, আরবি এবং হিন্দি ভাষার বই প্রকাশ করা হবে।
পাঠ্যক্রমে সিঙ্গুরের বাদ যাওয়া আর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সংযুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘সাম্প্রতিক অতীতকে তো আর ইতিহাস বলা যায় না। ২০২৬-এ বিজেপি জিতে গেল। আমি শিক্ষামন্ত্রী, আমি ইতিহাস বইয়ে লিখে দিলাম, কী ভাবে জিতল। তো এটাকে ইতিহাস বলা যায় না, এটা নিয়ে একটা প্রবন্ধ লিখে আমি একটা ম্যাগাজিনে দিতেই পারি, কিন্তু সেটা পাঠ্যসূচিতে আসা কি ঠিক?’’ এর পরে তাঁর সংযোজন, ‘‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালনে আমরা বিশ্বাসী নই। আমরা ব্রেন স্টর্মিং-এ বিশ্বাসী। তারা সেই বিষয় নিয়ে ভাবুক, সেই বিষয় নিয়ে চিন্তা করুক। তারা সেই বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাক। এটা আমাদের বর্তমান শিক্ষা দফতরের লক্ষ্য।’’