দীর্ঘ দিন নিয়োগ হয়নি। তার উপর ২০২৫-এর এপ্রিলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির দায়ে চাকরি খোয়াতে হয়েছে প্রায় ২৬ হাজার স্কুলশিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে। এর মধ্যে নতুন করে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু বছর গড়িয়েও চাকরি পান একজন। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নতুন করেই মাথা চাড়া দিচ্ছে আন্দোলন, নানা দিকে।
বুধবার স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন স্পষ্ট জানান, এ ভাবে দিকে দিকে আন্দোলন মাথা তুললে কাজের কাজ হবে না। নতুন সরকার চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন করে নিয়োগ শুরু করবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
দীপক বর্মন বলেন, “বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন মানুষের প্ররোচনায় একের পর এক নতুন নতুন ‘বঞ্চিত তালিকা’ তৈরি হচ্ছে। তথাকথিত সেই বঞ্চিতদের সকলকে যদি সরকার চাকরি দেয়, তা হলে আগামী ২০ বছরে কোন ছেলেমেয়ে আলাদা করে চাকরি পাবে না।” মন্ত্রীর দাবি, চলমান নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়া চালু করবেন। সে জন্য প্রার্থীদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মন্ত্রীর দাবি, বহু প্রার্থীই নানা উপায়ে চাকরির জন্য তদবির করছেন। এতে আখেরে লাভ হবে না বলেই তাঁর মত। তিনি বলেন, “আজ যাঁরা স্নাতক-স্নাতকোত্তর পাশ করছেন, বিএড, ডিএলএড করছেন, তাঁদেরও চাকরির প্রয়োজন। নানা ভাবে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে চাকরি নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এটা সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
দীপক বর্মনের অভিযোগ, নানা ভাবে প্রার্থীদের প্ররোচনায় দেওয়া হচ্ছে। তাই তিনি বলেন, “ওই প্ররোচনায় পা না দিয়ে আপনারাও পড়াশোনায় মন দিন। এই সরকার যোগ্যতমদের কদর করতে জানে। কারও কাছে যেতে হবে না, আপনি নিজ যোগ্যতায় চাকরি পাবেন এবং সে পথ আমরা সুগম করবার চেষ্টা করছি।”
বুধবার আরও একবার উঠে আসে স্কুল সার্ভিস কমিশন-এর ২০১৬ প্যানেল বাতিলের প্রসঙ্গ। স্কুলশিক্ষামন্ত্রী বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো বর্তমান জটিলতা থেকে মুক্ত হয়ে গেলেই পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। নিয়োগ প্রতিবছর হবে। আমি কথা দিচ্ছি, এর পর থেকে নিয়মিত নিয়োগ হবে, দুর্গাপুজোর মতোই হবে।”